যে কথা পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছে, তা আরও সরাসরি এবং স্পষ্ট ভাবে বলতে শোনা গেল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না-পাওয়া নিয়ে মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। শমীক বলছেন, গোটা পরিস্থিতির জন্য কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় বিচ্যুতি রয়েছে। তবে অন্তর্ঘাত রয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মনে করছেন, ‘ষড়যন্ত্র’ হয়েছে।
দু’দিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক দফতরে মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন অগ্নিমিত্রা। তিনি দাবি করেন, কিছু জায়গায় ভিতরে বসে তৃণমূলের লোকজন অশান্তিতে উস্কানি দিচ্ছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘ধমক-চমক দিয়ে, রিল বানিয়ে, মিডিয়া ট্রায়াল করে, ২০ জন লোককে রাস্তায় নামিয়ে ওই হেরে যাওয়া খণ্ড-বিখণ্ড তৃণমূলের কোনও বুদ্ধি চলবে না।’’ পাশাপাশি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিবসে পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা দিবস পালন হবে বলে ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০-৩০ লক্ষ মহিলাকে ওই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। রবিবার শমীক জানিয়েছেন, ওই সংখ্যাটি হতে পারে ৫০ লক্ষ।
রবিবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে বিজেপির আয়োজিত ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন শমীক। অন্নপূর্ণা নিয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘দু’-এক জায়গায় বিচ্যুতি আছে। সেটা সিস্টেমের কারণে। বহু জায়গায় স্যাবোটাজ (অন্তর্ঘাত) করারও চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু জায়গায় ফর্ম ফিল আপ করতেও কেউ কেউ গাফিলতি দেখিয়েছেন।’’ অন্তর্ঘাতের মূলে কারা, পরিষ্কার করেননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তবে তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই আরও ৫০ লক্ষ মহিলা ওই প্রকল্পের আওতায় টাকা পাবেন। যোগ্যদের কেউ-ই বঞ্চিত হবেন না। তিনি এ-ও জানান, কোথাও কোথাও ওই প্রকল্প বানচাল করার চেষ্টা হয়েছে। তার পরেও প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণার টাকা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শমীক জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাতে সত্যিকারের উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছোয়, তার জন্য তালিকা যাচাই বা স্ক্রিনিং-এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বছরে ৩৬ হাজার টাকা তো কম অর্থ নয়। প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।’’
বিজেপির ওই ‘প্রশিক্ষণ শিবিরে’ হাওড়া সদরের বিজেপি সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য-সহ বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারী এবং ‘কার্যকর্তা’ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, বিধায়ক সঞ্জয় সিংহ এবং রুদ্রনীল ঘোষও।