Advertisement
E-Paper

নিট-কাণ্ডে দেশ জুড়ে পাল্টা প্রচার শুরু বিজেপির! এ রাজ্যে অশান্তির চেষ্টা হলে কড়া ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী তাপস রায়

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে, অভিযোগ বিজেপির। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, এ রাজ্যে অশান্তি পাকানোর কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ, প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:০১
দিল্লিতে নিট-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী তাপস রায়। বৃহস্পতিবার।

দিল্লিতে নিট-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী তাপস রায়। বৃহস্পতিবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিচ্ছে। দেশ জুড়ে এ বার তার পাল্টা প্রচারে নেমে পড়ল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও বৃহস্পতিবার শাসক শিবিরের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, এ রাজ্যে অশান্তি পাকানোর কোনও রকম চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ, প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযোগ বিজেপির। অবিজেপি সরকারের আমলে কোথায় কত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, তার খতিয়ানও দিয়েছেন তাপস।

নিটের প্রশ্নফাঁস, শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের সমর্থন জানিয়ে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ২৬তম দিন। সরকার পক্ষের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের এক দফা বৈঠক হলেও তা থেকে সমস্যার কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। এই পরিস্থিতিতে কলকাতাতেও নিট-কাণ্ডে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই শুক্রবার শহরে মিছিল করবে। দেশ জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে তারা। এ ছাড়া, সিজেপি-র তরফে শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে পুলিশকে ইমেল পাঠানো হয়েছে বলে খবর। তার আগে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য বিজেপি।

তাপস ছাড়াও সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক বিমলশঙ্কর নন্দ এবং যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস বিশ্বাস। প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সরকারের ‘বিচ্যুতি’ মেনে নিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের বক্তব্য, সরকার প্রশ্নফাঁস নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত শক্ত করতে যা যা করা দরকার, কেন্দ্র তা করছে। তবে দিল্লির আন্দোলন আর নিট বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। বিদেশি শক্তির মদতে সেখান থেকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে। তাপসের কথায়, ‘‘প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পরে ভারত সরকার যে রকম কঠোর পদক্ষেপ করেছে, তা আগে কখনও দেখিনি। তা সত্ত্বেও অশান্তির চেষ্টা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কিছু জায়গায় যে রকম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, এখানেও তেমনই করার চেষ্টা হচ্ছে। বিদেশ থেকে টাকা ঢুকছে। পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হলে আমরা ঘটতে দেব না। পুলিশ, প্রশাসন সতর্ক আছে।’’

শুধু নিট নয়, সব পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়েই আলোচনা দরকার, দাবি বিজেপির। কংগ্রেসি এবং অবিজেপি শাসনে কত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, তার হিসাবও দিয়েছেন তাপস। বলেছেন, ‘‘ইউপিএ সরকারের আমলে শিক্ষার বাজেট ছিল ৮২০০ কোটি। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। রাজ্যের মানুষকে বলব, দু’মাস আগে আপনারা পশ্চিমবঙ্গকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। এ বারও চক্রান্ত ব‍্যর্থ করুন। নতুন করে অশান্তি করার সুযোগ আমরা দেব না।’’

দিল্লির বিক্ষোভ থেকে দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগ প্রসঙ্গে দেবজিৎ জানিয়েছেন, ওই আন্দোলনের সঙ্গে নিট পরীক্ষার আর কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ, সেখানে গাড়ির তেলের ট্যাঙ্ক খুলে তার মধ্যে জ্বলন্ত দেশলাই ফেলা হচ্ছে। সাংবাদিকদের আক্রমণ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত উমর খালিদের মুক্তি চাওয়া হচ্ছে ওই আন্দোলন থেকে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফেরানোর পক্ষে সওয়াল হচ্ছে। হিন্দু দেবদেবীর নামে, রামের নামে খারাপ কথা বলা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা প্রশ্নফাঁসের কী সম্পর্ক?’’

উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। শুক্রবার কলকাতায় সিজেপি এবং এসএফআই-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাপস বলেন, ‘‘কেউ চাইলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু সেখান থেকে অশান্তির চেষ্টা করা হলে সরকার যা করার করবে।’’

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Cockroach Janata Party Tapas Roy BJP Bengal BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy