মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলনের পাল্টা পথে নামতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ভিড়তন্ত্র হঠাও’। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাজ্য জুড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এ রাজ্যে বিজেপির পাঁচটি সাংগঠনিক জ়োনে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে পাঁচটি বড় পদযাত্রার পাশাপাশি পাঁচটি শহরে ‘যুব জমায়েত’ হবে দলের যুব মোর্চার উদ্যোগে । এ ছাড়াও থাকছে একগুচ্ছ সাংবাদিক বৈঠক, পত্রপত্রিকায় উত্তর সম্পাদকীয় প্রতিবেদন, বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে সম্মেলন এবং সমাজমাধ্যমে লাগাতার ভাষ্য নির্মাণ। এই ছ’দফা কর্মসূচি হাতে নিয়ে ‘ভোটচুরি’ তত্ত্বের মোকাবিলায় পথে নামছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।
ইন্ডিয়া জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টি জনতা পার্টির ‘জ্ঞানেশ হঠাও’ আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি অন্যান্য রাজ্যে অক্টোবরের ২১-২২ তারিখ থেকেই শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কর্মসূচি চলবে নভেম্বরের ৫ তারিখ পর্যন্ত। এ রাজ্যে দেরি হওয়ার কারণ উৎসবের মরশুম। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জেলায় জেলায় বৈঠক করে প্রস্তুতি পর্ব সারা হয়েছে। দল পথে নামবে আগামী সোমবার, ২ নভেম্বর থেকে। পদযাত্রাগুলির আয়োজন করবে বিজেপি। টাউন হল গোছের ‘যুব জমায়েত’ করে নবীন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে যুব মোর্চা।
২ নভেম্বর পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে কলকাতায়। মিছিল শুরু হবে কলেজ স্কোয়্যার থেকে, শেষ হবে ধর্মতলায়। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তো থাকছেনই। থাকছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারিতে থাকা অন্য নেতানেত্রীরাও।
৩ নভেম্বর পদযাত্রা হবে হাওড়ায় এবং শিলিগুড়িতে। হাওড়ার মিছিল শুরু হবে কাজিপাড়া মোড় থেকে, শেষ হবে হাওড়া ময়দানে। শিলিগুড়ির মিছিল শুরু হবে বাঘা যতীন ময়দান থেকে, শেষ হবে এয়ারভিউ মোড়ে। ৪ নভেম্বর পদযাত্রা নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। রাজবাড়ি মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত হবে মিছিল। আর ৫ নভেম্বর পদযাত্রা দুর্গাপুরে। ভিড়িঙ্গি মোড় থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত।
যুব জমায়েতও হবে ২ নভেম্বর থেকে। প্রথম দিন বর্ধমান এবং খড়্গপুরে। ৩ নভেম্বর কলকাতায়। ৪ নভেম্বর মালদহে। ৫ নভেম্বর কল্যাণীতে। জানাচ্ছেন যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত। কোনও বড় প্রেক্ষাগৃহে বা অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করে এই কর্মসূচিগুলির আয়োজন করা হবে। প্রতিটি জায়গাতেই হাজার খানেক যুবক-যুবতীর জমায়েতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে যুবমোর্চা সূত্রের খবর। এই কর্মসূচি মূলত যুব সমাজের সঙ্গে বিজেপির যুব নেতৃত্বের আলাপচারিতাভিত্তিক হবে।
আরও পড়ুন:
রাজ্য বিজেপির চার বারের সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোকে গোটা জনসংযোগ অভিযান দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রাহাকে। প্রবালের কথায়, ‘‘এই পদযাত্রা বা অন্য জনসংযোগ কর্মসূচিগুলি শুধু বিজেপির কর্মসূচি নয়। যাঁরা ভারতের পক্ষে, তাঁদের সকলের জন্য। যারা ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের পক্ষে, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ভারতপন্থী নাগরিককে আমরা রাস্তায় নামার আহ্বান জানাচ্ছি।’’
‘জ্ঞানেশ হঠাও’ আন্দোলনকে বাংলাদেশে হাসিনা উৎখাত আন্দোলনের সঙ্গে যে একাসনে বসাতে চায় বিজেপি, সেটা কংগ্রেস-ককরোচদের বিক্ষোভকে ‘ভিড়তন্ত্র’ আখ্যা দেওয়া থেকেই পরিষ্কার। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে টানা দু’বছর নৈরাজ্য এবং আইনশৃঙ্খলাহীনতার ছবি দেখেছিল বাংলাদেশ। বিরোধীরা এ দেশেও তেমনটাই করতে চায় বলে বিজেপির অভিযোগ। পাল্টা জনসংযোগ কর্মসূচি তাদের পালের হাওয়া কাড়ার চেষ্টা বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
আরও পড়ুন:
বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে ৫ নভেম্বর প্রথম দফার কর্মসূচি শেষ হবে। তার পর ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ফের এই ধরনের কর্মসূচি চলবে। তবে খুঁটিনাটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া এখনও বাকি। তার মধ্যে যদি কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যায়, তা হলে ভোটপ্রচারের সমান্তরালেই চলবে জনসংযোগ কর্মসূচি।