রাজ্যে এ বার ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। মঙ্গলবার ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পরে এই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে এই মুহূর্তে ১৪৮ জন ডেঙ্গি পজিটিভ রোগী আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হই হই, গেল গেল রব তোলার কোনও কারণ নেই।’’ ডেঙ্গির পাশাপাশি আর এক মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়া নিয়েও আতঙ্ক না-ছড়ানোর আবেদন জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর এই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭,৬০০-রও বেশি। এ বার সেই সংখ্যা প্রায় ৪,০০০। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার সময় স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া পুরসভার পুর কমিশনার এবং ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের ডাকা হয়েছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, পরিবহণ, সেচ দফতরের সচিব, রেলের আধিকারিকেরাও। বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি ৯ মে। ২৩ মে প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছিল। আমি এসেছিলাম রূপায়ণের অংশটি রিভিউ (পর্যালোচনা) করতে।’’
কলকাতা পুরসভা এবং আশপাশের পুসসভাগুলি নিয়ে গঠিত বৃহত্তর কলকাতায় ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে পুরসভায় চেয়ারম্যানেরা রয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন না।’’ রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ঘোষণা— ‘‘কর্মরত ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের আমরা এগজ়িকিউটিভ অফিসার করব।’’ তবে বৃহত্তর কলকাতার ১৬৩টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গি রয়েছে। মুর্শিদাবাদের নওদা, নদিয়ার চাকদহের মতো ব্লকে এখনও ডেঙ্গি রয়েছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখা উচিত। আশাদিদিরা যাতে সামান্য জ্বর বলে অবহেলা না করেন, বিনামূল্যে যাতে টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যে ১৪৮ জন চিহ্নিত তাঁদের পরিবারের লোকেদেরও নজরে রাখা হবে। ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্য আড়াল করা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এর পাশাপাশি ডেঙ্গির মশার লার্ভা নিধনের জন্য তরল লার্ভানাশকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কামান দেগে মশা মারার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিয়েছেন। কারণ, তা ব্যবহারের ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। দক্ষিণ দমদমের ঘটনায় যে চিকিৎসক ‘ডেঙ্গি’ বলেছিলেন তাঁকে ডেথ অডিট কমিটির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ৩, ৪ এবং ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভা-সহ কেএমডিএ এলাকায় স্পেশাল ক্লিনিং হবে এবং এনজিও, পুলিশকর্মীরা তাতে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি। মঙ্গলবারের বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা মিলিয়ে ১৯,৭০০ জনেরও বেশি এখনও পর্যন্ত কার্ড পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৪৫২ ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কালিম্পং, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলির বাসিন্দা আয়ুষ্মান ভারতে উপকৃত হয়েছেন।’’ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে উপকৃত বীরভূমের শিশু ফারহান আলির নামও এসেছে তাঁর সাংবাদিক বৈঠকে।