Advertisement
E-Paper

‘ডিজে কোনটা? বিভ্রান্তিতে দুটো বক্স-ও আটকাচ্ছে পুলিশ’! পুজোর আগে মন্দা, সরকারের কাছে আর্জি মাইক ব্যবসায়ীদের

পুজোর বাকি আর ১১ দিন। কিন্তু লাউডস্পিকার বা সাউন্ড বক্সের তেমন চাহিদা নেই বলে দাবি মালিকদের। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় দক্ষিণবঙ্গের ১৭টি জেলার সাংগঠনিক নেতৃত্বকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করে ‘সাউথ বেঙ্গল ইলেকট্রিক্যাল ডিস্ট্রিক্ট কমিটি’।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:১৯

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

দুর্গাপুজোয় এবং প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কোনও ভাবেই ‘ডিজে’ ব্যবহার করা যাবে না। শব্দদূষণ রোধ করতে এই সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, তার পর থেকে দুটো সাউন্ড বক্স ভাড়া করলেও পুলিশ আটক করছে। পুলিশ হাতে আটক, গ্রেফতার হচ্ছেন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ কর্মীরা। তাই ডিজে বলতে ঠিক কী ‘নিষিদ্ধ’ করার কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশিকা না দিলে সমস্ত রকমের অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছে ‘সাউথ বেঙ্গল ইলেকট্রিক্যাল ডিস্ট্রিক্ট কমিটি’। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সরকারি অনুষ্ঠানেও তারা লাউডস্পিকার, সাউন্ডবক্স ভাড়া দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

পুজোর বাকি আর ১১ দিন। কিন্তু লাউডস্পিকার বা সাউন্ড বক্সের তেমন চাহিদা নেই বলে দাবি মালিকদের। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় দক্ষিণবঙ্গের ১৭টি জেলার সাংগঠনিক নেতৃত্বকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করে ‘সাউথ বেঙ্গল ইলেকট্রিক্যাল ডিস্ট্রিক্ট কমিটি’। তাতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডিজে বলতে ঠিক কোন ধরনের সাউন্ড সিস্টেমকে বোঝানো হচ্ছে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। সেই সঙ্গে ‘পুলিশি হয়রানি’ বন্ধ করতে হবে। নইলে পুজোর পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কোথাও মাইক-স্পিকার ভাড়া দেবেন না।

বয়কটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ‘সাউথ বেঙ্গল ইলেকট্রিক্যাল ডিস্ট্রিক্ট কমিটি’। বারাসতের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় সংগঠনের তরফে দক্ষিণবঙ্গের ১৭টি জেলার সাংগঠনিক নেতৃত্বকে নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে বিভিন্ন জেলার সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম বিভিন্ন এলাকায় মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ও অডিয়ো সিস্টেম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সম্প্রতি ডিজে বাজানো নিয়ে সরকারি ভাবে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও ‘ডিজে’র নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা কোন যন্ত্রকে এই শ্রেণিতে ফেলা হবে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁদের দাবি, বড় অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, হোটেল, রেস্তরাঁ বা বিনোদনকেন্দ্রে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডিস্ক সাউন্ড সিস্টেমের সঙ্গে সাধারণ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত অ্যামপ্লিফায়ার, সাউন্ডবক্সকে এক করে দেখা ঠিক নয়। সংগঠনের তরফে পুরঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘সাউন্ড ব্যবসার সঙ্গে কয়েক লক্ষ লোকের রুজিরুটি জড়িয়ে। কিন্তু এ ভাবে যদি সরকার আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, আমরা তো না খেতে পেয়ে মারা যাব। আমরা কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আন্দোলনে নামব।’’ তিনি ডিজে কী তা নিয়ে ব্যাখ্যা দেন (ডিজে বা ডিস্ক জকি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পার্টি, ক্লাব কিংবা উৎসবে রেকর্ড করা বা পূর্ব-রেকর্ডকৃত জনপ্রিয় সঙ্গীত শ্রোতাদের জন্য বাজান)। পুরঞ্জয় বলছেন, ‘‘আমরা তো কেউ ডিজে নই। আমরা কিছু বাজারচলতি ডিজে মিক্সিং রিমেক গান বাজাই। সরকার যদি বলে এগুলি নিষিদ্ধ, শুধু পুরনো গান বাজান। তা-ই হবে। কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশিকা দিন।’’

লাউডস্পিকার ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ডিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে সাধারণ অ্যামপ্লিফায়ার বক্সও আটক করছে পুলিশ। সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারা বলছে, নির্দিষ্ট শব্দসীমা বেঁধে গানবাজনা করার নির্দেশ দিক সরকার। কিন্তু ‘ডিজে নিষিদ্ধ’ বলে আখেরে তাঁদের ব্যবসাই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়টি দেখার জন্য মৌখিক ভাবে আবেদন করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন।

DJ Durga Puja Loud Speaker BJP Government Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy