ছেলো প্রহ্লাদ দাস ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন শুনে প্রথমে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, পুলিশ ঠিক কাজই করেছে। পুত্রের দেহের ময়নাতদন্তের পরে ভেঙে পড়লেন বাবা রামপ্রসাদ দাস। তিনি জানান, ছেলে যে দোষ করেছে, তা জানেন। কিন্তু ‘হত্যা না করে যাবজ্জীবন দিতে পারতেন’ বলে মর্গের বাইরে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
গাইঘাটাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজে। মঙ্গলবার রাতে ময়নাতদন্তের পর প্রহ্লাদের মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। উপস্থিত ছিলেন বাবা রামপ্রসাদ। ছেলের দেহে মালা পরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘‘আমার কলজেটা ফেটে যাচ্ছে! জানি আমার ছেলে মারাত্মক অন্যায় করেছে, যার মাফ হয় না।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘সব জানার পরেও বলছি, এই ভাবে নৃশংস হত্যা না করে অফিসারেরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারতেন। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমাকে ছেড়ে দিন! আমি আর বলতে পারছি না।’’
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার সকালে নিহতের মা জানিয়েছিলেন, নাগরিক হিসাবে তিনি ‘খুশি’। তবে ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার শিক্ষিত ছেলে... অন্যায় করেছে। শাস্তি পেল। পুলিশকেও বলেছি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমার ছেলেকে তো পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। ওর কঠোর শাস্তি হোক চেয়েছিলাম। কিন্তু এনকাউন্টার চাইনি। বলল পালাচ্ছিল। এত গার্ড থাকতে কী ভাবে পালাচ্ছিল ও। পালাচ্ছিল নাকি! গুলি করেছে... যাক।’’ সদ্য সন্তানহারা মা আরও বলেন, ‘‘মা হিসেবে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে খুশি। আমার মেয়ের সঙ্গে এমন হলে তখন তো আমি শাস্তিই চাইতাম। আশা করব, আর কেউ যেন ঘৃণ্য কাজ না করে। ওর মতো কাউকে চলে যেতে না হয়।’’ সে সময় বাবাও বলেন, ‘‘আমি খুব খুশি। যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে।’’
গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সোমবার রাতে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হন তিনি। পুলিশের দাবি, ধর্ষণ ও খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল তারা। সেই সময়ে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। গুলিও ছোড়েন। আর তখনই পুলিশের পাল্টা ছোড়া গুলি লাগে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের বাঁ পায়ে এবং বুকে। মোট তিনটি।