বাংলায় প্রতিরক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের নতুন আবহ তৈরি হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস কর্মসূচির মঞ্চ থেকে এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের বর্তমান সরকারের শিল্পনীতি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
রাজনাথ বলেন, ‘‘বাংলার বাতাসে এখন নতুন গন্ধ। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তন।’’ আগে বাংলায় শিল্প বন্ধ হওয়া নিয়ে আলোচনা শোনা গেলেও এখন বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের খবর শোনা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান রাজ্য সরকার শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। উদ্দেশ্য সৎ থাকলে উন্নয়নকে কেউ আটকাতে পারবে না।’’ তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের ফলাফল সুদূরপ্রসারী হবে এবং তার প্রভাব কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে অনুসারী শিল্পের বিকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাজনাথ। তিনি বলেন, বাংলা বন্দে মাতরমের মন্ত্র দিয়েছে, নবজাগরণের সাক্ষী থেকেছে। এ বার শিল্পের নবজাগরণের পথেও বাংলা এগিয়ে চলেছে। জিআরএসই-র নতুন প্রকল্পগুলিকে ঘিরে একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘পাঁচটি প্রকল্পের ভূমিপুজোর দিনটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য শুভদিন। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দক্ষ এবং অদক্ষ— দুই ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’’ তিনি জানান, প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে অনিচ্ছুক ছিল। নতুন সরকার সেই নেতিবাচকতার অবসান ঘটিয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করেছে এবং বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ দেওয়া হয়ে গিয়েছে।’’ অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিপর্যয় মোকাবিলায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ‘অর্জুন বাহিনী’ গঠনের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। সব মিলিয়ে জিআরএসই-তে পাঁচটি প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে বাংলার প্রতিরক্ষা উৎপাদন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে বলেই দাবি কেন্দ্র ও রাজ্যের নেতৃত্বের।