Advertisement
E-Paper

কর্মীসংখ্যার সঙ্গে বেতনের হিসাবে গরমিল! তৃণমূল জমানার নিয়োগ নিয়ে কলকাতা পুরসভায় বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন

শুধু কাগজে-কলমে কর্মীর সংখ্যা মিলিয়ে দেখাই নয়, বাস্তবে তাঁরা কাজে আসছেন কি না, নিয়মিত কাজ করেন, না কি শুধু উপস্থিতির খাতায় সই করেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। কারা বেতন পান, কারা দৈনিক মজুরি পান এবং কারা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান, তারও পৃথক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৬ ১২:৫৭
কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য এই কমিটি গঠন করেছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য এই কমিটি গঠন করেছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর। —ফাইল চিত্র।

কলকাতা পুরসভায় কর্মীসংখ্যা ও বেতন বাবদ খরচের হিসাবে গরমিলের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার তুলনায় প্রতি মাসে বেতন ও মজুরি বাবদ বেশি পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গিয়েছে বলে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। তাই তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার শেষ ১৬ বছরের নিয়োগ আতশকাচের তলায়। আর্থিক এই গরমিলের উৎস খুঁজে বার করতে এবার পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য এই কমিটি গঠন করেছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে পুরসভার ওয়ার্ড অফিস, বরো অফিস, বিভিন্ন বিভাগীয় দফতর, পুরসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং মূল ভবনের কর্মী সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য। কোথায় কত জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, সরাসরি চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা কত, এজেন্সির মাধ্যমে কত জন নিযুক্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কত কর্মী কাজ করছেন—এসবের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্সও পরীক্ষা করা হবে। শুধু কাগজে-কলমে কর্মীর সংখ্যা মিলিয়ে দেখাই নয়, বাস্তবে তাঁরা কাজে আসছেন কি না, নিয়মিত কাজ করেন, না কি শুধু উপস্থিতির খাতায় সই করেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। কারা বেতন পান, কারা দৈনিক মজুরি পান এবং কারা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান, তারও পৃথক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৪ হাজারের কিছু কম। অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি। এর পাশাপাশি রয়েছেন ১০০ দিনের প্রকল্পের বিপুল সংখ্যক কর্মী। সম্প্রতি হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, অস্থায়ী কর্মীদের কাজের নিরিখে যে পরিমাণ বেতন বা মজুরি হওয়ার কথা, তার তুলনায় বেশি অঙ্কের অর্থ কোষাগার থেকে বেরিয়েছে। পুর প্রশাসনের একাংশের ধারণা, গরমিলের বড় অংশটি কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সিগুলির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিগত সরকারের আমলে স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রায় বন্ধই ছিল। গত ১৬ বছরে যে নিয়োগ হয়েছে, তার অল্প অংশ ছিল সরাসরি চুক্তিভিত্তিক এবং অধিকাংশই হয়েছে এজেন্সির মাধ্যমে। অভিযোগ, কয়েকটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সিকে বারবার কর্মী সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছিল।

এক পুর আধিকারিক জানান, কর্মীসংখ্যার সঙ্গে কোষাগার থেকে বার হওয়া অর্থের পরিমাণ মিলছে না। তাই প্রথমে অস্থায়ী কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এর পর কর্মী ধরে ধরে যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বাস্তব অস্তিত্ব, কাজের ধরন ও কর্মঘণ্টা। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে কলকাতা পুরসভা।

KMC TMC BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy