পুজো সংখ্যা প্রায় সবই বেরিয়ে গিয়েছে। পাড়ার ডাকসাইটে পুজোর বাঁশ এখনও পড়েনি! এমন চমকপ্রদ কাণ্ড শেষ কবে দেখেছে বাঙালি? মে মাসের গোড়ায় রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। পুজো কমিটির সমীকরণও পাল্টে গিয়েছে রাতারাতি। ৩৪ বছরের শাসনকালে পুজো আয়োজনে বামেদের আগ্রহ তেমন ছিল না। সুভাষ চক্রবর্তীর মতো ‘জনগণের নেতারা’ নিজেদের মতো করে কিছু যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু দলগত ভাবে সিপিএমের ভূমিকা মণ্ডপের বাইরে ‘মার্কসীয় সাহিত্যের স্টল’-এই সীমাবদ্ধ ছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে দুর্গাপুজোর যোগাযোগ অবশ্য অনেক প্রাচীন। বাগবাজার সর্বজনীন বা শিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজোর সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। সোমেন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো কেউ কেউ ছিলেন সেই ধারার উত্তরাধিকারী।
তবে ময়দান ফাঁকা ছিল অনেকটাই। নিজেদের প্রতিপত্তি বাড়ানোর ক্ষেত্র হিসেবে খোলা জায়গাটা ‘আবিষ্কার’ করেন তৃণমূল নেতারা—বাম আমলেই। তৃণমূলে নেতা হওয়ার অন্যতম সিঁড়িই ছিল নামজাদা পুজোর কর্মকর্তা হওয়া। দলে দর পান অথচ পুজোর সঙ্গে যুক্ত নন, এমন নেতা তৃণমূলে ছিলেন কোটিতে গুটিক। পুজো দখলের লড়াইয়ে ক্রমশ পিছু হটেন দীর্ঘদিন কমিটি চালানো স্থানীয়েরা। পুজোর পরিচিতি হয়ে যায় রাজনীতিকদের নামেই। সুজিত বসুর শ্রীভূমি, অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সঙ্ঘ, ববি হাকিমের চেতলা অগ্রণী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, দেবাশিস কুমারের ত্রিধারা ইত্যাদি। পালাবদলের পরে প্রায় সকলেরই ঘটি উল্টেছে। কারও দিন কাটছে জেলে, কেউ তাড়া খেয়েছেন, কেউ হাওয়া বেগতিক বুঝে পুজোমুখো হচ্ছেন না। তাঁদের জায়গায় নতুন শাসকদলের কেউ কেউ পুজোয় প্রভাব খাটাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে পুজোর দখলও নিয়েছেন। যদিও দলগত ভাবে বিজেপি সে পথে হাঁটার বিরোধী। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন সে কথা।
বাংলার পুজো-বাজারে তাই এখন বেশ অনিশ্চয়তা। ঢাকে কাঠি পড়ার দু’মাস আগেও। শহরের ভিড়-উপচে-পড়া পুজোগুলোর কার এখন কী অবস্থা। খোঁজ নিল আনন্দবাজার ডট কম।
সুরুচি সঙ্ঘ: এই পুজোর হাত ধরেই রাজনীতিতে অরূপ বিশ্বাসের উত্থান। তৃণমূলের সিঁড়ি বেয়ে তিনি যত উপরে উঠেছেন, ততই আড়ে বহরে বেড়েছে সুরুচির পুজো। এ বছর তিনি পুজোর ত্রিসীমানায় নেই। ‘‘আমার বাবার হাত ধরেই সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর বেড়ে ওঠা। কিন্তু এখন ক্লাব থেকে পুজো সবই দখল হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া, আমি পুজোয় অংশগ্রহণ করতে গেলে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ হতে পারে। তাই সুরুচির পুজো থেকে আমাকে দুরেই থাকতে হবে।’’ বলেন অরূপ। তাঁর জায়গায় ‘এলাকাবাসীর অনুরোধে’ এসেছেন দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। অরূপ এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় প্রথম সারিতে থাকা সৌরভ বলছেন, ‘‘আগে সুরুচি সঙ্ঘের পুজোয় বৈভব থাকত, নিষ্ঠা থাকত না। এ বার হয়তো সে ভাবে বৈভব চোখে পড়বে না, কিন্তু নিষ্ঠার কোনও খামতি রাখব না।’’ এত দিন সুরুচির পুজো হত জীবনবিমা নিগমের জমিতে। সম্প্রতি সেই জমি ফেরত চেয়েছে এলআইসি। তার পরেও ওখানেই পুজো করা যাবে বলে আশাবাদী ক্লাবের বর্তমান কর্তারা। খুঁটিপুজো হয়েছে। কিন্তু মণ্ডপ গড়ার কাজ এগোয়নি।
নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের পুজো থেকে মুছে গিয়েছে বিশ্বাস ব্রাদার্সের নাম। —নিজস্ব চিত্র।
শ্রীভূমি: জাঁকজমকের জন্য বিখ্যাত, যানজটের জন্যও। জনস্রোতে ভিআইপি রোড স্তব্ধ হয়ে যাওয়া প্রতি বছরের ঘটনা। সে জন্য মমতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুজিত বসুকে। আবার মহালয়ার আগে নিজেই উদ্বোধন করেছেন পুজোর। ভোটে-হারা সুজিত আপাতত জেলে, চাকরি দুর্নীতি মামলায়। পুজোর মাথায় বিজেপি নেতারা, ‘এলাকাবাসীর অনুরোধেই’। গত ২০ বছর পুজোর সময় সপরিবার পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া বিজেপি নেতা কনক দেবনাথ এ বার সভাপতি। পুজোর বৈভব কমবে না বলেই তিনি আশাবাদী। সুজিতের প্রভাবে আর টাকা আসবে না। বাড়তি অনুদান দিয়ে ফাঁক পূরণ করবেন এলাকাবাসীই। মানুষের ঢলও একই থাকবে, মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে। কনক বলছেন, ‘‘গত ১৫ বছরে পুজোর সময় শ্রীভূমিতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার পরে তাঁদের অনেককেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়নি রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে। আমাদের আনন্দ যেন কারও নিরানন্দের কারণ না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছি।’’ জয়পুরের হাওয়ামহলের আদলে তৈরি হবে মণ্ডপ। মূর্তি হবে সাবেকি।
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় এ বার তৈরি হচ্ছে রাজস্থানের হাওয়া মহল। —নিজস্ব চিত্র।
চেতলা অগ্রণী: অরূপ, সুজিত ভোটে হেরেছেন। ববি হাকিম জিতেছেন। নাম লিখিয়েছেন ‘ভাল তৃণমূল’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সব মিলিয়ে তাঁর পায়ের তলার মাটি কিঞ্চিৎ শক্ত। পুজো কমিটিতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা ঢুকেছেন বটে, কিন্তু দাপটের সঙ্গে নয়। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা এলাকায় পুজো। ভবানীপুরের কোনও পুজোতেই বাড়তি নাক গলাতে বিজেপি নেতাদের নিষেধ করেছেন শুভেন্দু। ফলে চেতলা অগ্রণীর রাশ এখনও ববির হাতেই। ‘‘আমি সর্বক্ষণের রাজনীতিক। কিন্তু পুজোর উপরে রাজনীতি কখনওই চাপাইনি। তাই সরকার বদলের প্রভাব পড়েনি চেতলা অগ্রণীতে,’’ বলেন ফিরহাদ। অন্যান্য বার মহালয়ার দিন এখানে ঠাকুরের চোখ আঁকতেন মমতা। এ বার আর সেটা হবে না। তবে গত বছরের মতোই পুজোর দায়িত্বে শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এ বছর গ্ল্যামার খানিক কমবে, মেনেই নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। দিন বদলেছে, কী আর করা!
হাতিবাগান সর্বজনীন: উত্তর কলকাতায় এই একটিমাত্র পুজোই উদ্বোধন করতেন মমতা। পুজোর মুখ হিসেবে সামনে কলকাতার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, পিছনে শাশ্বত বসু—ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের কর্তা। পালাবদলের পুজোয় দু’জনের নামই মুছে গিয়েছে ব্যানার থেকে। নতুন চেয়ারম্যান স্থানীয় বিধায়ক, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এলাকার বিজেপি নেতারা বলছেন, এত দিন পুজোয় তাঁদের ‘প্রবেশাধিকার’ ছিল না। এমনকি ফোরামের অনুষ্ঠানে গত বছর পর্যন্ত ডাক পেতেন না বিজেপির কোনও প্রতিনিধি। এ বছর ১৪ জুনের রক্তদান শিবিরে অবশ্য মঞ্চ আলো করে ছিলেন তাপস, ইন্দ্রনীল খাঁ, সজল ঘোষেরা। ‘‘গত ১৫ বছর পুজোর রাজনীতিকরণ দেখেছি। আমরা চাই পুজোয় যেন কোনও রাজনীতি করা না হয়।’’ বলেন সজল।
পালাবদলের পরে সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে অতীনের বিরুদ্ধে। হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়ে তিনি এখন কার্যত অন্তরালে। শাশ্বতের অবশ্য দাবি, ‘‘আমি বরাবরই পুজোর আহ্বায়ক ছিলাম। এখনও তা-ই আছি। পুজোর সঙ্গে জড়িত ছিলাম, আছি এবং থাকব।’’ অতীন-শাশ্বতের দাপটে পুজো হত রাস্তা আটকে। তা নিয়ে মামলা গড়িয়েছিল হাই কোর্টেও। এ বছর রাস্তা বন্ধ করে পুজো করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। থিম শিল্পী রবীন রায় বলেন, ‘‘এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকব আমরা। এমন পুজো উপহার দেব যে, সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা হবে না।’’ তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় বাজেট যে অনেকটাই কমবে, মানছেন কমিটির কর্তারা।
ত্রিধারা সম্মিলনী: প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের পুজো। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়কও ছিলেন। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে হেরেছেন। ভোটের আগেই আয়কর দফতর হানা দিয়েছিল তাঁর তিন ঠিকানায়। ভোটের পরে মমতার আঁচল ছেড়ে তিনি ঋতব্রতের শরণে। মামলা সামলাতে, অভিযোগ কালীঘাটপন্থীদের। পুজোকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বাড়িয়েছিলেন দেবাশিস—অরূপ বিশ্বাসের মতোই। হারের পরে পুজোর রাশ আর তাঁর হাতে থাকবে কি না সংশয় দেখা দিয়েছিল। চিন্তায় ছিলেন দেবাশিসও। এখন অবস্থা সামলে নিয়েছেন। স্বপন দাশগুপ্ত প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। অন্য কোনও বিজেপি নেতাও নাক গলাচ্ছেন না পুজোয়। ‘‘আমরা এমন কোনও কাজ করব না, যাতে রাজ্য সরকারের অসুবিধা হয়,’’ বলছেন দেবাশিস। তবে পুজোর কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে। অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহেও বাঁশের কাঠামো তৈরির বাইরে কিছু হয়নি। মণ্ডপশিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার সহকারীরা জানাচ্ছেন, আপাতত এটুকু করারই নির্দেশ মিলেছে।
আরও পড়ুন:
টালা প্রত্যয়: এ পুজোও জুটির। তবে হাতিবাগান সর্বজনীনের ঠিক উল্টো। পুজোর মুখ ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। নেপথ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গত বছর শতবর্ষে পুজোর থিম ঠিক করে দিয়েছিলেন মমতা। উদ্বোধন থেকে বিসর্জন— পুজো ছিল আদ্যন্ত মমতাময়। ক্ষমতার হাতবদল হতেই ছবিটা বিলকুল পাল্টে গিয়েছে। শুভ-সহ পুরনো কমিটির প্রায় সবাই বিদায় নিয়েছেন। ভোটের আগে থেকেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন ভবতোষ সুতার। সব খুলে ফেলে বিদায় নিয়েছেন তিনিও। নতুন শিল্পী সুশান্ত পাল। তবে এত দিন যেখানে পুজো হত, পুরসভার সেই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির বক্তব্য, সারা বছর ধরে খেলার মাঠ দখল করে রেখে পুজো হবে না। আগের কমিটি আয়ব্যয়ের হিসেব দেয়নি বলে অভিযোগ নতুন কমিটির সদস্য দেবাশিস সোমের। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিও তাঁদের এক্তিয়ারে নেই। ফলে ভাঁড়ারে টান পড়বে। যদিও তাতে জৌলুসে ঘাটতি হবে না, দাবি দেবাশিসের।
পুরনো কমিটি ভেঙে নতুনদের নিয়েই হচ্ছে টালা প্রত্যয়ের শারদোৎসব। —নিজস্ব চিত্র।
চোরবাগান সর্বজনীন: চৌঠা মে-র পরে রাতারাতি ক্লাবঘরের দেওয়ালে নরেন্দ্র মোদীর ছবি আঁকিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। দুর্গামূর্তিকে আরতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেও কাজ হয়নি। জায়গা বেদখল করে তৈরি ঘর বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গত কয়েক বছরে পুজো মানচিত্রে চোরবাগানের উত্থান। আর জয়ন্তের হাত যিনি পিছন থেকে ধরে থাকতেন তিনি মমতার ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ন্ত অবশ্য এখন বলছেন, ‘‘কার্তিকদা গোড়াতেই বলেছিলেন, আমি তো তোমার পুজোর জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তাঁকে শুধু পাশে থাকার অনুরোধ করেছিলাম। এখন কেউ কেউ তাঁর বদনাম করতে চাইছেন।’’ এলাকাবাসীর দাবি মেনে জয়ন্ত পদ ছেড়েছেন। পুজোর কর্তৃত্ব চলে গিয়েছে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের হাতে। জয়ন্ত এক বার খুঁটিপুজো করেছিলেন। সেখানে সনাতন ধর্মের অপমান করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ফের খুঁটিপুজো করেছে নতুন কমিটি। ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান কাউন্সিলর মিনাদেবী পুরোহিত। শিল্পীও পাল্টেছে। সুব্রত মৃধার জায়গায় এসেছেন সুশান্ত পাল। পুজোয় দেনার পরিমাণ ৪৭ লক্ষ টাকা। নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জয়ন্ত বলছেন, ‘‘এই ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’’
চোরবাগানের পুজোয় দ্বিতীয়বার হল খুঁটি পুজো, কমিটির সঙ্গে বদল থিম শিল্পীরও। —নিজস্ব চিত্র।
হিন্দুস্থান ক্লাব: কালীঘাটপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্রের পুজো। পুজোর মুখ ইদানীং ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর ছেলে, ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর সৌরভ বসুর দৌলতেই পুজোর ফুলেফেঁপে ওঠা। তিনি মায়ের আগে থেকেই ঋতশিবিরে। ফলে এই পুজোতে নজর দেয়নি শাসকশিবির। সৌরভের কথায়, “রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও, আমাদের পুজোয় কোনও রকম চাপ আসেনি। আমরা আমাদের মতো করেই পুজো করছি।” কিন্তু তাঁরা নিজেরাই একটু টলমলে। ফলে অগস্টের মাঝামাঝি এসে সবে শুরু হয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুজো বলে পরিচিত হলেও, এই পুজো কমিটির মূল উদ্যোক্তা তাঁর পুত্র সৌরভ বসু। —নিজস্ব চিত্র।