রোগী দেখাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে গালিগালাজ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ পান্ডুয়ার খন্যান-ইটাচুনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসকের সরকারি আবাসনের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালচত্বরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পান্ডুয়া থানার পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত জিৎ ঘোষ নামে এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত একটায় এক রোগীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন তাঁর পরিবারের লোকজন। অভিযোগ, রোগীকে ঠিকমতো দেখা হয়নি বলে বচসা শুরু হয়। পরে পরিবারের তরফে স্থানীয় কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে বিষয়টি জানান। এর পর কয়েক জন যুবক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ওই চিকিৎসককে হেনস্থা করেন। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পর মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসপাতালে আসেননি চিকিৎসক। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, হেনস্থার কারণেই ওই চিকিৎসক হাসপাতালে থাকতে চাইছেন না। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, ‘‘সকালে ডাক্তারবাবুকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যেতে দেখি। জিজ্ঞেস করে জানতে পারি গতকাল তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। হেনস্থা করেছেন বিজেপি কর্মী জিৎ ঘোষ। হাসপাতালের মতো জায়গায় এ ভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কেন হবে?’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, মান্দারণের বাসিন্দা অভিযুক্ত জিৎ ঘোষ নিজেকে ‘বিজেপি নেতা’ বলে দাবি করেন। যদিও পান্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি বিজেপির কেউ নন। তবে কেউ কোনও অন্যায় করলে দল বা আমি তাঁকে সমর্থন করব না। যে এই কাজ করেছে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হওয়া উচিত। আমি বিএমওএইচ-কে ফোন করে বিষয়টি জানতে পারি। চিকিৎসককে পরিষেবা চালিয়ে যেতে বলেছি এবং তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা দিয়েছি।’’
পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ আগমন মণ্ডল জানান, ‘‘চিকিৎসক মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিধায়কও বার বার খোঁজ নিয়েছেন। পরে চিকিৎসককে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’’