কাজে যাওয়ার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল এক রেলকর্মীর। শুক্রবার হুগলি স্টেশনের আপ তিন নম্বর লাইনে ‘দুর্ঘটনা’ হয়। তবে সহকর্মীদের একাংশের দাবি, কাজের চাপের জেরে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন ৫৩ বছরের কমল সেনাপতি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কর্তৃপক্ষ। সহকর্মীদের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ তাঁরা।
রেলের পাবলিক ওয়ার্কস ইনস্পেক্টর ছিলেন কমল। শুক্রবার ৮টা নাগাদ হুগলি স্টেশনে গিয়েছিলেন চন্দননগর যাবেন বলে। কিন্তু ওই দিকে ট্রেন না ধরে তিনি উল্টো দিকে যান। ব্যান্ডেল যাওয়ার আপ লাইন থেকে তাঁর দ্বিখণ্ডিত দেহ উদ্ধার করে জিআরপি। অকস্মাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে ব্যান্ডেল জিআরপি থানায় যান কমলের সহকর্মীরা। তাঁদেরই কেউ কেউ বলছেন, পেশাগত কারণে অবসাদে ভুগছিলেন কমল। এক সহকর্মীর মন্তব্য, ‘‘একেই আমাদের কর্মীর সংখ্যা কম। তার উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ছুটি তো প্রায় নেই-ই। এক এক দিন তো ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।’’ তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল কমলকে। সাসপেন্ড করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সহকর্মীদের দাবি, ‘‘ক’দিন ধরেই অস্থির ছিলেন কমল।’’
আরও পড়ুন:
কর্মীদের উপর ‘অত্যধিক মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে’— এই বিষয়টি ডিআরএম-কেও জানানো হয়েছে বলে দাবি মৃত রেলকর্মীর সহকর্মীদের। তাঁদের অসুবিধা দূর করতে পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রেলের মেন্স ইউনিয়ন।
কমলের বাড়ি বলাগড়ে। ব্যান্ডেল জিআরপি সূত্রে খবর, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কর্মীর মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। তিনি বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তবে সহকর্মীরা কী বললেন, তার চেয়ে বেশি জরুরি বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলা। আমরা ওই কর্মীর বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’’