বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের মামলা ছেড়ে দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। দু’দিন আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং রক্ষাকবচ চেয়ে তাঁর বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন টুলু। তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি। বলা হয়, নিম্ন আদালতের নির্দেশমতোই টুলুকে হাজিরা দিতে হবে। এর পর নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতে যান টুলু। সেই মামলা থেকে বিচারপতি ভট্টাচার্য সরে দাঁড়ালেন।
বিচারপতি মামলা ছেড়ে দেওয়ায় টুলুর আবেদন এ বার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগের কাছে ফেরত গিয়েছে। মামলাটি এর পর কোন বেঞ্চ শুনবে, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতিই সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরও পড়ুন:
টুলুর রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য মামলার নিষ্পত্তি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী এর পর নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরটি চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলা গিয়েছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। কিন্তু বিচারপতি চন্দ মামলাটি শুনতে চাননি। তাঁর যুক্তি, একই মামলার শুনানি বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে চলছে, তাই ওই মামলা তিনি শুনতে চান না। টুলুর মামলা ফের যায় পুরনো বেঞ্চে। তার পরেই এই মামলা ছেড়ে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি জানান, যে মামলার নিষ্পত্তি তিনি করে দিয়েছেন, তা আর শুনবেন না।
বিচারপতি সরে যাওয়ায় টুলু কিছুটা বিপাকে পড়লেন। গত ২৯ এবং ৩০ জুলাই বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মিলেছিল ১৫ কেজি সোনাও। সেই থেকে টুলুর খোঁজে তল্লাশি চলছে। আদালতের দ্বারস্থ হলেও টুলু এখনও বেপাত্তা। পুলিশ তাঁকে ধরতে পারেনি। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি বিদেশে পালিয়েছেন। এর মধ্যেই টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত (এসিজেএম কোর্ট) তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেয়। হাই কোর্টের নির্দেশ, টুলুকে নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাজিরা দিতে হবে।