Advertisement
E-Paper

তারাপীঠের পর কলকাতা, গভীর রাতে দমকলের সদর দফতরের অদূরে হোটেলে অগ্নিকাণ্ড! ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে শিশু-সহ ৯ জনের মৃত্যু

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলবাহিনী। সূত্রের খবর, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কয়েক জন অচৈতন্য হয়ে পড়েন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০২৬ ০৭:১২
Fire at a hotel on Free School Street in Kolkata

মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই হোটেলেই আগুন লাগে। ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন। সেই আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ওই ভবনেরই কয়েকটি হোটেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলবাহিনী। সূত্রের খবর, ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কয়েক জন অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশু-সহ ন’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টোর আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের ঘরগুলি। সেই আগুন ছড়ায় আশপাশে। আতঙ্কে আবাসিকেরা ছোটাছুটি শুরু করেন। যে হোটেলে আগুন লাগে তার একটা ভবন পরেই দমকলের সদর দফতর। রাত ২টো ০৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় দমকল।

শুধু দমকল নয়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নেবানোর চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা। পরে তাঁরা হোটেলের ভিতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে বিষয়টি বিশদে তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনাস্থলে যাবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা।

আগুন যখন লাগে তখন হোটেলের আবাসিকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের। গলগল করে শুধু কালো ধোঁয়া বার হতে দেখা যায়। আগুন লাগার খবর ছড়াতেই আবাসিকেরা হোটেলের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হোটেলের ঢোকা-বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, ৬০ জন আবাসিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃতদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন নেই। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। কয়েক জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

প্রশ্ন উঠছে, হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে। আদৌ ওই হোটেল বা তার আশপাশের হোটেলগুলিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। ইতিমধ্যেই হোটেল এবং তার আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ওই হোটেলের লিফ্‌ট বন্ধ হয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন আবাসিকেরা। তবে কয়েক জন হোটেলের মধ্যে আটকে পড়েন। কী ভাবে বাইরে বার হবেন, তার পথ খুঁজে পাননি। ধোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। হোটেলের ভিতরেই জ্ঞান হারান তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ উদ্ধারকাজ শেষ হয়। দমকলের চারটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ন’জন আবাসিক ঝলসে মারা যান। ঘটনার রাতেই হোটেলের মালিক প্রবীর পাল ও তার ছেলে কল্যাণ আশিস পালকে গ্রেফতার করেছিল তারাপীঠ থানার পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার অগ্নিকাণ্ড। এ বার কলকাতায়। মঙ্গলবার রাতের ঘটনা উস্কে দিল বছরখানেক আগের বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সেই অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

Fire Incident

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy