মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরেই কলকাতা পুরসভায় চালু হল সম্পত্তি করের বকেয়া মেটাতে ‘ওয়েভার স্কিম’। বৃহস্পতিবার পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আপাতত ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও দু’মাস এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতে, কলকাতার ভোটে শাসকদল বিজেপি-কে অতিরিক্ত সুবিধা দিতেই অক্টোবর মাসের গোড়া থেকে এই সম্পত্তি করের বকেয়া মেটাতে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরে বর্তমানে সম্পত্তি করের বকেয়া রয়েছে এমন করদাতার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮। তাঁদের কাছে বকেয়া সম্পত্তি করের অর্থের পরিমাণ ৬,৮৫৪.২৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি, জরিমানা বাবদ ৪০১.৩৮ কোটি এবং সুদ বাবদ ৩,৩১৪.১৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ ৩,১৩৮.৭৬ কোটি। এই বিপুল বকেয়া আদায় করতেই নতুন করে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু করা হয়েছে। পুরসভার তরফে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৮৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তির জন্য ছাড়ের পরিমাণও আলাদা রাখা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ওয়েভারে ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ থাকছে। বসবাসযোগ্য এবং বাণিজ্যিক— দু’ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই নির্ধারিত শর্ত মেনে ওয়েভারের সুবিধা পাওয়া যাবে।
কমিশনার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সুদের হিসাব ধরা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া সম্পত্তি কর মিটিয়ে দিলে করদাতারা সুদ এবং জরিমানার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অনলাইনে কিউআর কোড স্ক্যান করেই ‘ওয়েভার স্কিমের’ সুবিধা নেওয়া যাবে। তবে যাঁরা অনলাইন ব্যবস্থায় স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য অফলাইনেও আবেদন ও সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে কলকাতা পুরসভায় একই ধরনের ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু হয়েছিল। তার কয়েক বছর পর ফের উদ্যোগী হল পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষের আশা, এক দিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া সম্পত্তি কর আদায় হবে, অন্য দিকে ছাড়ের সুযোগ পেয়ে বহু করদাতা তাঁদের পুরনো বকেয়া মিটিয়ে দিতে আগ্রহী হবেন। পুরসভার সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যার প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। স্মিতা বলেছেন, ‘‘বিষয়টি আপাতত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সার্ভারের বিষয়ে যতক্ষণ না সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ কোনও পদক্ষেপ করা হবে না।’’