কলকাতার দীর্ঘদিনের যানজট ও তীব্র পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এ বার বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহুতল পার্কিং কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং সার্বিক সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা নিটকন লিমিটেডের সঙ্গে দু’টি পৃথক সমঝোতাপত্র বা মউ স্বাক্ষর করল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
সম্প্রতি এই প্রকল্পের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতার নিজস্ব ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখেই শহরকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কলকাতা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, বড় হাসপাতাল চত্বর এবং বাস ও মেট্রো টার্মিনাসের মতো জনবহুল স্থানগুলির আশপাশে গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত চাপ ও পার্কিং সমস্যা মেটাতে এই মাল্টি লেভেল কার পার্কিং ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যত্রতত্র কাজ শুরু না করে প্রথমে পুরো পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। সেই সমীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে পার্কিং কেন্দ্রের মোট সংখ্যা, প্রকল্পের সামগ্রিক বাজেট, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। সমগ্র পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি মডেল) এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থার মেলবন্ধনে এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। এর সুবাদে শহরের মূল রাস্তাগুলির উপর বেআইনি পার্কিংয়ের চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে, যানবাহনের গতি বাড়বে এবং পথচারীদের হাঁটাচলাও অনেক বেশি মসৃণ ও নিরাপদ হবে। পার্কিং ব্যবস্থার পাশাপাশি শহরের প্রধান রাজপথ, হেরিটেজ চত্বর, উদ্যান, বাজার এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সৌন্দর্যায়নের কাজেও হাত দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার ডিভাইডার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির জন্য নির্দিষ্ট নান্দনিক নকশা তৈরির পাশাপাশি শহরের দৃশ্যদূষণ সৃষ্টিকারী বিপজ্জনক ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল অপসারণের বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, “বর্তমানে কলকাতার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা যানবাহনের ভিড় এবং নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের স্থানাভাব। বিশেষ করে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই সঙ্কট চরমে পৌঁছায়। এই সমস্যা লাঘব করতেই আধুনিক বহুতল পার্কিং কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হচ্ছে। পিপিপি মডেলে জমির সঠিক ব্যবহার এবং আইসিটি ভিত্তিক স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেমন যানজট কমবে, তেমনই পুরসভার কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধিতেও এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।” সরকারের এই দ্বিমুখী উদ্যোগে তিলোত্তমার নাগরিক পরিষেবা এক নতুন মাত্রা পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।