রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বেসুরো এ বার তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাই! দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্মের মামলায় মধুছন্দাকে জেরা করে পুলিশ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্যের বিষয় জানতে পেরেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় মধুছন্দা দাবি করেছেন, ইন্দ্রনীল তাঁর কোনও কথাই শুনতেন না।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই মামলায় আগেই ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে। তবে তদন্তে পুলিশের নজরে তাঁর স্ত্রী এবং কন্যাও। এই মামলার এফআইআরে আরও কয়েক জনের নামও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবারই এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য মধুছন্দাকে তলব করা হয়েছিল লালবাজারে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই জেরাতেই ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্যের কথা জানান মধুছন্দা। কলকাতা হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। সেই মামলায় রক্ষাকবচ রয়েছে মধুছন্দার। তাই এই মামলায় তাঁকে জেরা করা হলেও এখনই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ।
শুধু ইন্দ্রনীল বা মধুছন্দা নন, এই মামলায় পুলিশের নজরে রয়েছেন তাঁর কন্যাও। সেন দম্পতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে পুলিশের স্ক্যানারে। অভিযোগ, তাঁদের কন্যার অ্যাকাউন্টেও টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার বেলা ২টোয় লালবাজারে তলব করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে ইন্দ্রনীলের কন্যার কাছে। এই মামলায় এফআইআরে নাম থাকা বাকি অভিযুক্তদের একে একে ডাকা হবে বলে খবর লালবাজার সূত্রে।
মধুছন্দা ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম বেআইনি ভাবে ব্যবহার করে তাঁরা পুজোর পাস বিক্রি করেছেন। দাবি করা হত, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি ইউনেস্কোর যোগ বা এতে ইউনেস্কোর অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইউনেস্কো এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তিই করেনি বলে দাবি।
আরও পড়ুন:
ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘ভুয়ো’ পাস বিক্রি করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে টাকা তুলতেন ইন্দ্রনীল, মধুছন্দারা। ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজ়্ড পুজো এন্ট্রি’র টিকিট বিক্রি করতেন। সেখানে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হত।
এই মামলায় পরে তদন্ত শুরু করে ইডি-ও। ইন্দ্রনীলের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। একাধিক বার তাঁকে ডেকেও পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ২৮ অক্টোবর ইডি দফতরে ইন্দ্রনীল হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
আগাম জামিন চেয়ে ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মধুছন্দার আবেদন মঞ্জুর করা হলেও আদালত ইন্দ্রনীলের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গ্রেফতারির পর আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।