চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্লাবের মণ্ডপশিল্পীকে এ বার তলব করতে পারে রাজ্য সরকারের গড়ে দেওয়া তদন্তকারী দল (সিট)। সেই সিটের প্রধান প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী শনিবার জানান, ঘটনার দিন গিরিশ পার্ক থানার কর্তব্যরত পুলিশ এবং দমকল আধিকারিকদের ডাকা হয়েছিল।
চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে গঠিত সিট শনিবার আবার বৈঠকে বসেছিল। সেই বৈঠকে ১২ থেকে ১৩ জনকে তলব করা হয়েছিল বলে জানান সিটের প্রধান। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ আধিকারিকদের ডাকা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, শনিবার দমকল আধিকারিকদেরও তলব করা হয়েছিল বলে জানান প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা। পরের শনিবার অর্থাৎ ৭ নভেম্বর আবার সিটের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে চোরবাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদেরও ডাকা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন সিটের প্রধান।
চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি রাজ্যের তরফে একটি সিট গঠন করা হয়েছিল। গত ২৬ অক্টোবর সিটের সদস্যেরা মহাকরণে বৈঠকে বসেছিলেন। যদিও তার আগে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান প্রাপ্ত তথ্য নিয়েই আলোচনা হয় গত বৈঠকে। শুধু তা-ই নয়, তদন্তের স্বার্থে কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, সেটারও এক তালিকা করা হয়। পাশাপাশি, সেই বৈঠকে ডাকা হয় চোরবাগান পুজো কমিটির কয়েক জন কর্মকর্তাকে। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকও। সূত্রের দাবি, কী কারণে দুর্ঘটনা, দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকার জায়গা কতটা প্রশস্ত ছিল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। শনিবারও আর এক দফা জিজ্ঞাসাবাদপর্ব চলে। সিট-প্রধান জানান, প্রয়োজনে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে ডাকা হতে পারে। এর আগে লালবাজারের তরফেও তাঁকে তলব করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চেয়েছিল চোরাবাগানের ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য স্পেশ্যাল কমিশন গঠন করতে। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, হাই কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠিত হোক। সেই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের কাছে চিঠি পাঠান। প্রধান বিচারপতি তাঁর প্রেক্ষিতে চিঠিতে জানান, কোনও বর্তমান বিচারপতি নয়, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশের পরই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির মূল দায়িত্ব হল, কী ঘটেছিল সে দিন, সেই কারণ খুঁজে বার করা। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখতে বলা হয়েছে এই নতুন কমিটিকে। ঠিক কোন সময়ে, কোন জায়গায় এবং কী ভাবে প্রথম ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে হবে তাদের। ওই মণ্ডপে যত লোক ধরার কথা, ওই সময় তার থেকে বেশি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে সিট।