Advertisement
E-Paper

শুধু ‘প্রতীকী’ হয়েই থাকবে মহাকরণ? স্থানাভাবে পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় ফেরা নিয়ে সংশয়ে রাজ্য প্রশাসন

মে মাসে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর পুনরায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৫৬
মে মাসে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর পুনরায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়।

মে মাসে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর পুনরায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়। ছবি: সংগৃহীত।

তবে কি শেষপর্যন্ত প্রতীকী রূপেই থেকে যাবে ঐতিহাসিক মহাকরণ? সম্প্রতি মহাকরণ সংস্কারের কাজ খতিয়ে দেখে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরমহলে। মে মাসে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর পুনরায় রাজ্য প্রশাসনের মূল কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে সংস্কারের প্রয়োজনে সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরিত হয়েছিল। নতুন সরকারের নির্দেশে প্রথম পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছ’জন মন্ত্রীর জন্য ঘর প্রস্তুত করেছে রাজ্যের পূর্ত দফতর।

মন্ত্রীদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (সিএমও), মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্যও আলাদা কক্ষ দ্রুত প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু কাজ এগোতেই পূর্ত দফতর বুঝতে পেরেছে, গত ১৩ বছরে সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজের পরিধি যে ভাবে বেড়েছে, তাতে পুনরায় মহাকরণে সব দফতরের সচিবালয় ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পুরো দফতরও সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এক শীর্ষ আধিকারিক। দুর্গাপুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের ঘর মহাকরণে তৈরি করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও মন্ত্রী সেখানে নিয়মিত বসতে শুরু করেননি। এই পর্যায়ে বাকি মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের কাজের পরিসর তৈরি করতে গিয়ে আধিকারিকরা দেখেছেন, মহাকরণে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিষয়টি ইতিমধ্যে পূর্তমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। বর্তমানে নবান্নের ১৪ তলা জুড়ে রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অফিস রয়েছে, যা পুরোনো মহাকরণে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। এ ছাড়াও নব মহাকরণের সবক’টি তল জুড়ে থাকা শ্রম, বিদ্যুৎ, আবাসন, ক্রীড়া ও সমবায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিও নতুন করে মহাকরণে আনা সম্ভব নয়।

পাশাপাশি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত ও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মতো বড় দফতরগুলি এখন সল্টলেক এবং নিউ টাউনে সুবিশাল জায়গা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। ফলে মহাকরণ নতুন করে সাজালেও সেই বিশাল প্রশাসনিক পরিকাঠামো সেখানে সংস্থান করা সম্ভব নয় বলেই মত আধিকারিকদের।

এমন পরিস্থিতিতে মহাকরণকে কেবল ‘প্রতীকী সচিবালয়’ হিসেবে ব্যবহারের পক্ষপাতী প্রশাসনের শীর্ষ স্তর। এক আধিকারিকের কথায়, “মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের ডিজির বৈঠকের জন্য একটি কনফারেন্স রুমও তৈরি হয়েছে। কিন্তু স্থানাভাবের কারণে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব বা স্বরাষ্ট্রসচিবের আলাদা কোনও বৈঠকের ঘরের বন্দোবস্ত করা যায়নি। আমরা বিষয়টি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি। পর্যাপ্ত কাজের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় মহাকরণে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।”

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার বলেন, “সরকার যে ভাবে নির্দেশ দেবে, আমরা সে ভাবেই কাজ করব। মহালয়ার মধ্যে ছ’জন মন্ত্রীর বসার বন্দোবস্ত করার কথা বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মন্ত্রীদের ঘরের পাশাপাশি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজির কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বসলেই বাকি মন্ত্রীরাও সেখানে কাজ শুরু করবেন। তবে মহাকরণ এখনও এমন পর্যায়ে প্রস্তুত নয় যাতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় নিয়ে স্থায়ী ভাবে সেখানে কাজ করতে পারেন। বাকি মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পুরো সচিবালয় আদৌ এখানে স্থানান্তরিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি।”

Writers’ Building Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy