আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই সাসপেনশনের মেয়াদ আরও খানিকটা বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে নিলম্বিত থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আরজি করের ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়ল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। এ বার তাঁদের সাসপেনশনের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হল।
আরও পড়ুন:
আরজি করের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিবিআই। বিনীত, ইন্দিরা এবং অভিষেককে তারা ডেকে পাঠিয়েছিল। গত মাসেই তাঁরা সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেছে সিবিআই।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশই। কিন্তু তার পরেও একাধিক ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখনও নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে বলে ফেলা, কখনও ভুল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ওই সময়ে বিদ্ধ হয়েছিল লালবাজার। এমনকি, হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’কে আড়ালের অভিযোগও উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। বিনীতের অপসারণের দাবি জোরালো হলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরান। তবে অন্য পদের দায়িত্বে বহাল ছিলেন বিনীত। এ ছাড়া, ওই সময়ে পুলিশের তরফে একাধিক সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দিরা এবং অভিষেককে দেখা গিয়েছিল। গাফিলতি আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।
আরজি করের ঘটনার দু’সপ্তাহ পরে সেমিনার হলের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছিল (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাতে দেখা যায়, যে সেমিনার হল থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে অনেক বহিরাগত প্রবেশ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে সাংবাদিক বৈঠকে এসে ইন্দিরা দাবি করেন, ভিডিয়োটি সেমিনার হলের হলেও দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, অপরাধের পরে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’, রাতদখলের রাতে সেমিনার হল ভাঙচুর-সহ তদন্তে গাফিলতি সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি উঠেছিল, তাতে জড়িয়েছিল আইপিএস অভিষেকের নাম।