বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে দিল পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে সেখানে পরিস্থিতি থমথমে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এই ধারা অনুসারে, তিন থানা এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। সকাল থেকে টহলদারি চলছে।
নাবালিকার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রবিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। কিশোরীর দেহ আটকে রেখে স্থানীয়েরা বিক্ষোভ দেখান। কিশোরীর খুনি সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে পুলিশকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে বারুইপুরে। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে।
আরও পড়ুন:
বারুইপুরকাণ্ডে অভিযুক্তদের খোঁজে রবিবার রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। দু’জনকে গ্রেফতারির পাশাপাশি তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে রবিবারের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া, পুলিশকে মারধরের অভিযোগেও মামলা হয়েছে। ধৃত এবং আটক ব্যক্তিরা প্রথম মামলাটিতেই অভিযুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সোমবার নতুন করে যাতে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই সকাল থেকে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বিভিন্ন থানা এলাকায়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। কোথাও বেআইনি জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না-যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সেই মতো পদক্ষেপও করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে না-নেওয়ার এবং গুজবে কান না-দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই।
বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বলে অভিযোগ। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। এর পরেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এক সন্দেহভাজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাতে তার মৃত্যু হয়। কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট এলে খুনের ধরন বোঝা যাবে। পাশাপাশি, খুনের আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকেই তা জানতে পারবে পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে আলোড়িত। কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে রবিবার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভবানীভবনে ডাকা হয়েছে তার বাবাকে। এ ছাড়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সোমবার ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বারুইপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি আপাতত বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর দল আইএসএফ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। খুনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু এবং পুলিশকে মারধরের পৃথক মামলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার জানিয়েছেন, মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। রেললাইন অবরোধের ঘটনাতেও পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
- গত শনিবার, ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সন্দেহভাজনকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
- এর পরও নাবালিকার দেহ ঘিরে রাস্তা আটকে দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ট্রেন পরিষেবাও থমকে গিয়েছিল তার জেরে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
-
উপড়ে ফেলা হবে বেআইনি মদ, গাঁজার ঠেক! বারুইপুরের ঘটনা টেনে পুলিশকে দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
বারুইপুরে শুভেন্দু: গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারকে ২৫ লাখ, দাদাকে সিভিকের চাকরি, কথা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও
-
গণপিটুনিকাণ্ডে আরও গ্রেফতার! মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে নিহত ইন্দ্রের বাড়ি যাওয়ার আগের রাতেই পুলিশের জালে তিন অভিযুক্ত
-
বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রের বাড়ি সারাইয়ে প্রশাসন, বসল সিসি ক্যামেরা, শনিবার মণ্ডলদের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী
-
বারুইপুরে গণপিটুনি ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় আরও পাঁচ জন গ্রেফতার! ধৃত বেড়ে ৩৫, বাকিদের সন্ধানেও তল্লাশি