সব ঠিকঠাক চললে বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য দু’টি বিশেষ বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। পরিষদীয় দপ্তর সূত্রের খবর, বহুদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভ প্রশমিত করে প্রাক্তন বিধায়কদের স্বাস্থ্য পরিষেবার আর্থিক বরাদ্দ একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান বিধায়কদের প্রশাসনিক কাজকর্ম গতিশীল করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র’ পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবেও আইনি সিলমোহর বসাতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত প্রথম বিলটিতে প্রবীণ ও প্রাক্তন বিধায়কদের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য-উদ্বেগের সুরাহা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রাক্তন বিধায়কেরা চিকিৎসা বাবদ মাসে ৬ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পান। নতুন বিলে সেই বরাদ্দ একধাক্কায় ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বিধানসভার বর্তমান সদস্যদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা একলপ্তে বাড়ানো হলেও ব্রাত্য থেকে গিয়েছিলেন প্রাক্তনেরা। তাঁদের মাসিক পেনশন এবং চিকিৎসার অনুদান বৃদ্ধির দাবি তৎকালীন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একাধিক বার প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও কাজের কাজ হয়নি বলেই অভিযোগ প্রবীণ বিধায়কদের। ফলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অসন্তোষ পুঞ্জীভূত ছিল।
গত মে মাসে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রাক্তন বিধায়কদের একটি প্রতিনিধিদল তাদের পেনশনের অঙ্ক পুনর্বিবেচনা এবং স্বাস্থ্যভাতা বৃদ্ধির জোরালো আর্জি নিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়। সেই আর্জিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েই পরিষদীয় দফতর এই বিল পেশের প্রস্তুতি নেয়। যদিও পেনশন বাড়ানোর বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন, তবে চিকিৎসার মতো জরুরি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে কোনও কালক্ষেপ করতে চায়নি শাসকদল।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, দ্বিতীয় বিলটির মূল লক্ষ্য বর্তমান বিধায়কদের সামাজিক ও জনসংযোগের পরিসরটিকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া। ক্ষমতায় আসার পরেই প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মেটাতে বিধায়কদের নিজস্ব ‘নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কেন্দ্র পরিচালনার খরচ বাবদ বিধায়কদের মাসে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে এ বার আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এক শীর্ষ পরিষদীয় কর্তার কথায়, “জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণদের মানবিক মর্যাদার কথা মাথায় রেখেই বিল দু’টি পেশ করা হবে।”
বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ আলির কথায়, “বর্তমানে বার্ধক্যে চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া। এই বর্ধিত ভাতা অশীতিপর প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।” তবে স্বাস্থ্যভাতার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মাসিক পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টিও যাতে সরকার শীঘ্রই সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে, সেই আশাতেই এখন বুক বাঁধছেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কেরা।