Advertisement
E-Paper

বাকি পাঁচ মামলায় নন্দীগ্রামের মিলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না, জানাল রাজ্য! আপাতত কোনও নির্দেশ দিল না হাই কোর্ট

হলদিয়া মহকুমা আদালতে মিলনকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে কাঁথি আদালতও তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠায়। এই প্রেক্ষিতে বাকি পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচের জন্য হাই কোর্টে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৮
মিলন প্রধানের মামলায় পদক্ষেপ করছে না হাই কোর্ট।

মিলন প্রধানের মামলায় পদক্ষেপ করছে না হাই কোর্ট। —ফাইল চিত্র।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে বাকি পাঁচ মামলায় কোনও পদক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার উচ্চ আদালত জানাল, আপাতত কোনও নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে, বাকি যে দুই মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী জেল হেফাজতে রয়েছেন, তার জামিনের আবেদন করা হবে মঙ্গলবারই।

হলদিয়া মহকুমা আদালতে মিলনকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে কাঁথি আদালতও তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠায়। ২৩ সেপ্টেম্বর আবার হাজিরা রয়েছে মিলনের। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হবে আগামী ৪ অক্টোবর। এই প্রেক্ষিতে অন্য পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে মিলনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলায় আদালতের পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই বলে জানায় রাজ্য। মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয় ২০০৭ সালের পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে। উপনির্বাচনের আগে হঠাৎ ১৭ বছর পুরনো মামলার পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। মিলনের আইনজীবী বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কী ভাবে ব্যাহত করা যায়, তার একটি আদর্শ উদাহরণ।’’

তার পাল্টা রাজ্যের তরফে এএজি রাজদীপ মজুমদার জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা ২০০৭ সালের ঠিক কথা। নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, শুধু মিলনের বিরুদ্ধেই নয়, অন্যদের বিরুদ্ধেও থাকা পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্য এ-ও বলে, বাকি পাঁচ মামলায় মিলন মূল অভিযুক্ত নন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। তখন উচ্চ আদালতও জানিয়েছে, আপাতত এ নিয়ে তারা কোনও নির্দেশিকা দিচ্ছে না তারা।আগামী ১২ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে ভবানীপুরেও জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়ম মেনে একটি কেন্দ্র তাঁকে ছাড়তে হয়। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পরে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, তার অনতিবিলম্বে ১৭ বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। এখন মিলনের স্ত্রীর ভিডিয়োবার্তাকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচার করছে কংগ্রেস। তিনি বলেছেন, ‘‘প্রতিবার নির্বাচনে ভোট দিতে যান। পুজোয় বাড়ি যান। কোনও দিন পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। এ বার প্রার্থী হয়েছেন বলে গ্রেফতার। নন্দীগ্রামবাসীকে বলব, আপনারা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সঙ্গে থাকুন।’’

তিন দশক আগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের প্রার্থী অধীর চৌধুরী যখন জেলে, তখন তাঁর বক্তব্যের ক্যাসেট নিয়ে প্রচার চালিয়েছিল কংগ্রেস। মিলনের গ্রেফতারি এবং তাঁর স্ত্রীর ভিডিয়োবার্তা সেই স্মৃতি ফেরাল।

Nandigram west bengal by-election By-Election congress candidate Calcutta High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy