Advertisement
E-Paper

বাড়ির মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ‘শাস্তি’! প্রেমিক, তাঁর বাবা এবং বন্ধুকে নগ্ন করে হাঁটানো হল বেহালার রাস্তায়, হল ভিডিয়োও

পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই কিশোরীর মামা রাহুল বর্মন এবং তাঁর জনাছয়েক স্যাঙাত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। রাহুল একদা ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল করতেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:১৩

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বেহালার সরশুনায় নিগ্রহের শিকার তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সংশ্লিষ্ট কিশোরীর। প্রেমিকাকে চুম্বন করার অভিযোগে প্রেমিক তরুণ, তাঁর বাবা এবং এক বন্ধুকে রবিবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটিয়েছিলেন ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যেরা। প্রকাশ্য রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় ওই তিন জনকে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছিল। তোলা হয়েছিল সেই ঘটনার ভিডিয়ো!

এখনও পর্যন্ত মোট তিন জন অভিযুক্তকে (কিশোরীর বাবা, মা এবং মামা) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই কিশোরীর মামা রাহুল বর্মন এবং তাঁর জনাছয়েক স্যাঙাত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। ওই ছ’জনের খোঁজ চলছে। রাহুল একদা সক্রিয় ভাবে তৃণমূল করতেন এবং ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ বছরের তরুণ রবিবার সন্ধ্যায় খালপাড় মাঠের সামনে ১৩ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ১৯ বছর বয়সি এক বন্ধুও। কথা বলতে বলতে তরুণ ওই নাবালিকাকে চুম্বন করেন। তা দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার বন্ধু। তিনি তাঁর বাবা এবং মামাকে বিষয়টি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার এবং মামা রাহুল এসে দুই তরুণকে তাঁদের ক্ষুদিরামপল্লির বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। মামা ফোন করে ডেকে নেন আরও কয়েক জন বন্ধুকে। বাড়ির মধ্যে দু’জনকে দীর্ঘক্ষণ হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে ডাকা হয় তরুণের বাবাকেও।

অভিযোগ, এর পরেই তিন জনের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাঁদের বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেন কিশোরীর পরিবারের সদস্যেরা। বাড়ির সামনের রাস্তায় নগ্ন হয়ে তাঁদের হাঁটতে বাধ্য করা হয়। ছাড় দেওয়া হয়নি তরুণের বাবাকেও। তরুণের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় সোমবার মামলা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় খুনের চেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত, জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া, বেআইনি ভাবে আটকে রাখা, সম্মানহানি, ভয় দেখানোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রদীপ, রাহুল এবং কিশোরীর মা রিঙ্কু সরকারকে। তিন জনের নামই এফআইআর-এ রয়েছে। এ ছা়ড়া বাকি ছ’জন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় সরশুনার ক্ষুদিরামপল্লিতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, জানতে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। দুই তরুণের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। দু’জনেই জানিয়েছেন, পোশাক খোলার জন্য তাঁদের মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে এখনও কোনও বন্দুক খুঁজে পায়নি। বিষয়টি জানতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বস্তুত, স্থানীয়দের একাংশের সক্রিয় ভূমিকাতেই রবিবার হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন প্রেমিক তরুণ এবং তাঁর বাবা ও বন্ধু। স্থানীয় ওই ব্যক্তিরাই তাঁদের উদ্ধার করে একটি গ্যারাজে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিলেন। পোশাকগুলি আনিয়ে ফেরত দিয়েছিলেন। পরে উত্তেজিত স্থানীয়দের একাংশ ওই কিশোরীর পরিবারের বাড়িও ভাঙচুর করেন বলে সূত্রের খবর।

Behala Kolkata Police Sarsuna

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy