পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজো। কলকাতার রাস্তাঘাট রাঙনো হয়েছে নানা রঙে। পাড়ার মোড় থেকে সেতু, উড়ালপুল— রঙের পোঁচ সর্বত্র। কোথাও কালো পিচ ঢালা রাস্তা রামধনুর রূপ নিয়েছে। কিন্তু বিতর্কও রয়েছে। বিশেষত, বাইকচালকদের একাংশ অভিযোগ করছেন, কলকাতায় রাঙানো রাস্তায় বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় চাকা পিছলে যাচ্ছে। রোদের সময় চোখ ধাঁধাচ্ছে। বুধবার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টিভেজা চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পর পর কয়েকটি বাইক পিছলে পড়েছে। ওই নিয়ে প্রশ্ন করতেই দৃশ্যত বিরক্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানালেন, রাস্তায় রং করার জন্য দুর্ঘটনা হচ্ছে, এমন কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই।
রাস্তার এই সৌন্দর্যায়ন মূলত যাঁর উদ্যোগে হচ্ছে, তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসন খোঁজখবর করছে। রিপোর্ট এলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
বুধবার সায়নদীপ লাহিড়ি নামে একজনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ক্যাপশনে কটাক্ষ করে লেখা, ‘‘কে জানে কী কারণে স্কিড (পিছলে) করে গেল এত সুন্দর রাস্তায়।’’ দেখে মনে হয়েছে, ভিডিয়োটি গাড়ির ড্যাশক্যামে তোলা। গাড়ির সামনে তিন জন বাইক আরোহীকে পর পর পড়ে যেতে দেখা যায় (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তবে অভিযোগ, রং করার জন্য রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে রং করা রাস্তায় যেতে গিয়ে গাড়ির চাকা পিছলে যাচ্ছে।
ওই ভিডিয়োর কথা জানেন অগ্নিমিত্রাও। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ‘‘একটি বাইক পড়ে গেল। সেটি সামনের আর একটি বাইকে ধাক্কা মারে। কেন পড়ে গেল আমরা জানি না। বিষয়টি পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’’ অগ্নিমিত্রা জানান, রাস্তায় যে রং ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো ‘অ্যন্টি-স্কিড’। পড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর সংযোজন, ‘‘তবে আমি শুনলাম রঙে অনেকের চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। সেটা আমরা দেখে নিচ্ছি। যদি মানুষের অসুবিধা হয়, তার বিকল্প ব্যবস্থাও হবে।’’ অগ্নিমিত্রার দাবি, পুজোর আগে শহরকে এ ভাবে সাজানো, রাস্তা রং ইত্যাদি মানুষ খুব ভাল ভাবেই নিয়েছেন।
অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বেশ কয়েকটি উড়ালপুলে রং হয়েছে। দুর্ঘটনা কি সর্বত্র হয়েছে? তাঁর কথায়, ‘‘রং করার জন্য দুর্ঘটনা হয় নাকি! কতগুলো উড়ালপুলে দুর্ঘটনা হয়েছে?’’ শুভেন্দু এ-ও জানান, ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে তিনি আর কোনও মন্তব্য করবেন না।
আরও পড়ুন:
চতুর্থীর বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে বারোয়ারি দুর্গাপুজোর সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আগে জানিয়েছিলেন, চলতি বছর ৫৭ হাজার ৪০০ পুজো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আরও ৮০০ ক্লাব পুজোর জন্য পুলিশের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল। আমরা অনুমতি দিয়েছি। তারা গ্র্যান্ট (১ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা) পাচ্ছে। আগে পুজোর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। এ বার হয়েছে ৫৮ হাজার প্লাস। ১৩ হাজার নতুন পুজো।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘পরিবর্তন তো এটাই! যাঁরা পরিবর্তন কেমন হল বলে বুঝতে পারছিলেন না, এটা তাঁদের জন্য।’’
পুজোর সময় বন্ধ চা-বাগানগুলোর কর্মীদের বোনাস দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে অনেক চা-বাগান বন্ধ রয়েছে। গতবার মমতা ব্যানার্জি (পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী) ১৬ শতাংশ বোনাস দিয়েছিলেন। আমরা ২০ শতাংশ বোনাস দিয়েছি। ২০ শতাংশই সর্বোচ্চ। এর বেশি হয় না।’’ তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সাল থেকে চা-বাগানে মোট ১৯,৫২৪ শ্রমিক রয়েছেন। এঁরা রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল এবং পাঁচ হাজার টাকা করে পাবেন। তাঁরা এমনিতে ৩৫ কেজি চাল পান। উৎসবে অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল দেওয়া হবে। শ্রম দফতর থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘মানবিক সরকারের ছোট্ট প্রয়াস।’’
আগামী ১৭ অক্টোবর রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগেও পুজোর সময় বেলুড় মঠে এসেছেন তিনি। এ বার এ বার প্রধানমন্ত্রী থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।