ওড়িশা থেকে মালবাহী অটো নিয়ে বেরিয়েছেন। গন্তব্য কলকাতা, তার পর উত্তর ২৪ পরগনা। কোনও ভাবেই বড় রাস্তা কিংবা জাতীয় সড়ক ধরেননি গাড়িচালক। অলিগলি, ছোট রাস্তা ধরে এগোচ্ছিলেন। ভরসা ছিল গুগ্ল ম্যাপ। পরিকল্পনা নিখুঁত ছিল। এগোচ্ছিলেন এঁকেবেঁকে। কিন্তু ‘সাফল্য’ এল না। প্রায় ৪৪ কিলোগ্রাম গাঁজা সমেত পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে ধরা পড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার এক বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর বিশ্বাস। জাতীয় সড়ক ছেড়ে গ্রামের রাস্তা এবং গলি ধরে গাড়ি নিয়ে এগোচ্ছিলেন তিনি। সন্দেহ হওয়ায় অটো আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাতে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। শেষমেশ দীপঙ্করের মালবাহী অটো থেকে কয়েক লক্ষ টাকার গাঁজা উদ্ধার করা গিয়েছে।
সবং ব্লকের ১১ নম্বর অঞ্চলের চাবুকিয়া এলাকায় ধরা পড়েন দীপঙ্কর। বস্তুত, গোপন সূত্রে পুলিশ আগেই খবর পেয়েছিল যে মাদক পাচার হতে পারে ওই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু সেটা যে এ ভাবে, তা ভাবতে পারেননি পুলিশ আধিকারিকেরাও।
আরও পড়ুন:
বড় সড়কপথ ছেড়ে কেন অলিগলি ধরছেন ওই গাড়িচালক, সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে আটকানো হয়েছিল দীপঙ্করকে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৪৪ কিলোগ্রাম গাঁজা ছিল গাড়িতে। কিন্তু বাইরে থেকে বোঝার উপায়ই ছিল না। কারণ, চালকের আসনের পিছনের দিকে এমন ভাবে স্ক্রু দিয়ে মাদকের প্যাকেট রাখা ছিল যে শুধু তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা অসম্ভব ছিল। ওড়িশার ঠিক কোথা থেকে আনা হচ্ছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, এই সমস্ত তথ্য পেতে দীপঙ্করকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। রবিবারই তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘জাতীয় সড়কে পুলিশ নাকা তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই কারণে গুগ্ল ম্যাপ দেখে অলিগলি, গ্রামের রাস্তা ধরে ডেবরা পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। সেখান থেকে আবার কোনও রকম জাতীয় সড়ক পেরিয়ে অলিগলি ধরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এই মাদক কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত, দেখা হচ্ছে।’’