Advertisement
E-Paper

স্যালাইন-কাণ্ড: সাত দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সেই রোগিণী! কী বলছে পরিবার

ঘটনার সূত্রপাত সপ্তাহখানেক আগে। গত ৫ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মানসীকে। পরে জানা যায় তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মানসীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ২৩:২৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

গত ৫ জুলাই অসুস্থতা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন মানসী দে। তাঁর চিকিৎসায় ‘গাফিলতির’ অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের দাবি ছিল, তাঁকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে। পদক্ষেপ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আট দিনের মাথায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই মানসী।

ঘটনার সূত্রপাত সপ্তাহখানেক আগে। গত ৫ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মানসীকে। পরে জানা যায় তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। গত বুধবার সকাল থেকে চলছিল স্যালাইন। তাঁর পুত্র বিশ্বজিৎ দে দাবি করেন, ‘‘বুধবার বিকেলে মা বলেন, তাঁর বুকে জ্বালা করছে। তখন স্যালাইন বোতলের দিকে তাকাতেই দেখি চলতি বছরের মার্চ মাসে তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ বুধবার রাতেই হাসপাতাল সুপার ইন্দ্রনীল সেনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান তিনি।

বিশ্বজিতের অভিযোগের পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হইচই শুরু হয়। বুধবার রাতে মানসীকে ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেফার করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। মেডিক্যাল কলেজের সমস্ত বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনও করা হয়েছিল। সোমবার বিকেলে সেই বোর্ড মানসীকে ছুটি দেয়। হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রনীল বলেন, ‘‘মেডিক্যাল বোর্ডের নির্দেশের পরেই ওই রোগিণীকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ক্রনিক প্রবলেম রয়েছে ওই বৃদ্ধার। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন।’’

জানা গিয়েছে, মানসীর আরও কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সেই সব চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। মানসীর পুত্র বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ করায় মাকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। মায়ের পুরনো অনেক সমস্যা রয়েছে। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁকে দেখানোর কথা বলা হয়েছে।’’

মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্য ভবনের নজরে আসতেই হাসপাতালে প্রতিনিধি দল পাঠায় তারা। প্রতিনিধি দল হাসপাতালের স্টোর রুম পরিদর্শন করে। অন্য দিকে, জেলাশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দু’টি রিপোর্ট জমা পড়ে স্বাস্থ্য দফতরে। এ ছাড়াও, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সিস্টার ইন চার্জ, স্টাফ নার্স, অ্যাসিস্টেন্ট সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপার এবং স্টোর ইনচার্জকে শো-কজ়ও করেছে স্বাস্থ্য ভবন।

উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন-বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে স্যালাইনে ছত্রাক (ফাঙ্গাস) থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই প্রসূতি এবং এক সদ্যজাতের। সেই সময় স্যালাইনের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

midnapore Saline Controversy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy