Advertisement
E-Paper

কালীঘাটের বেশ কয়েক জনের সিম নিজের মোবাইলে লাগিয়ে টাকার লেনদেন অভিষেকের আপ্তসহায়কের? সন্দেহ পুলিশের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় কেন অন্যদের নামে কেনা সিম ব্যবহার করতেন? তা-ই এখন ভাবাচ্ছে পুলিশকে। নোটিস পাঠাল ওই সিম কার্ডগুলো যাঁদের নামে কেনা, তাঁদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৫
Sumit Roy Arrest Case

সুমিত রায়কে আবার হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। —ফাইল চিত্র।

একটি মোবাইল। সিম কার্ড অনেকগুলো। কিন্তু সেই সমস্ত সিম কার্ড নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে কেনেননি তৃণমূল সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। ওই সিম কার্ড যাঁদের নামে তোলা হয়েছে, সেই ব্যক্তিরা এ বার পুলিশের নজরে।

তদন্তকারীদের দাবি, সিমের মালিকেরা সকলেই কলকাতার কালীঘাট এলাকার বাসিন্দা (যেখানকার বাসিন্দা অভিষেকও)। বালিকাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছে। শনিবার আবার সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ।

শালবনি জমি দুর্নীতির পর বালি কারবারে অনিয়ম এবং দুর্নীতিতেও নাম জড়িয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়কের। শালবনি থানার এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই মামলার তদন্ত করছে। তাদের দাবি, সুমিতের একটি মোবাইল নম্বর ‘পার্মানেন্ট’। তবে দ্বিতীয় সিমটি ঘন ঘন বদল করতেন তিনি। বেশ কয়েকটি সিম ব্যবহার করেছেন একই ফোনে। ওই সিমগুলোর একটিও তিনি নিজের নামে কেনেননি। সিম কার্ডগুলোর গ্রাহক অন্য। তাঁরা কি ওয়াকিবহাল ওই সিম কার্ডগুলো সম্পর্কে? না কি তাঁদের অজান্তে তথ্য ব্যবহার করে বেআইনি ভাবে ওই সিম কার্ডগুলো কেনা হয়েছিল? এই সম্পর্কে খোঁজখবর করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই সিম কার্ডগুলো ব্যবহার করে ইউপিআই ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হত। তবে এ নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।

নয় দিনের পুলিশ হেফাজতের পর শনিবার সুমিতকে হাজির করানো হয়েছিল মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন। সরকারপক্ষ তার বিরোধিতা করেছে। সরকারি আইনজীবী এপিপি সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, এই ন’দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ধৃতের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মামলা সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তার মধ্যে বড় বিষয় হল বিভিন্ন ব্যক্তির নামে তোলা সিম কার্ড ব্যবহার করা। ওই সমস্ত সিমের গ্রাহকদের ডাকা হয়েছে। সে জন্য অভিযুক্তকে আরও চার দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার আবেদন করেন তিনি। শেষমেশ বিচারক দু’দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়েছেন অভিষেকের আপ্তসহায়ককে।

আদালতের বাইরে এপিপি সৈয়দ নাজিম বলেন, ‘‘হেফাজতে থাকাকালীন সুমিতের মোবাইলের কলরেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে একই মোবাইলে বেশ কয়েকটি সিম কার্ড ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ওই সিম কার্ডগুলি কালীঘাট এলাকার বাসিন্দাদের। ৫-৭ জনেরও বেশি নামে সিম তোলার তথ্য মিলেছে। তাঁদের অনুমতি নিয়ে ওই সিম কার্ডগুলি সুমিত ব্যবহার করতেন, না কি তাঁরা এ বিষয়ে অন্ধকারে, এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য ওই সিম গ্রাহকদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ তাঁদের সকলকে নোটিস পাঠিয়েছেন।’’

উল্লেখ্য, যে বালি ব্যবসায়ীর অভিযোগে সুমিত গ্রেফতার হয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল, গাড়ি করে অতিরিক্ত বালি বহনের অনুমতি দিতে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন সুমিত। কিন্তু ছাড়পত্র মেলেনি। ওই টাকাও ফেরত পাননি তিনি। চলতি বছরের ২৬ জুন শালবনি থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন সেই ব্যবসায়ী।

Sumit Roy Corruption Case Salboni Police case Midnapore Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy