জঙ্গল থেকে বেরিয়ে চলে এসেছিল রাস্তায়। কিন্তু চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় রেলগেট। রাস্তা ‘ফাঁকা’ করতে ধাক্কা দিয়ে সেই রেলগেটই ভেঙে ফেলল বুনো হাতি। তার পরে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে অন্য পাশের রেলগেট ডিঙিয়ে ফের চলে যায় জঙ্গলের দিকে। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনে। রেল সূত্রে খবর, রেলগেট ভাঙলেও ট্রেন চলাচলে কোনও প্রভাব পড়েনি। রবিবার সকালে ওই ভেঙে যাওয়া রেলগেট মেরামত করা হয়।
খড়্গপুর-টাটানগর শাখার সরডিহা এবং বাঁশতলা স্টেশনের মাঝে রাসুয়া রেলগেটে ঘটনাটি ঘটে। বন দফতর এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার রাতে একটি বুনো দাঁতাল খড়্গপুর বনবিভাগের কলাইকুন্ডা রেঞ্জ থেকে বেলতলা হয়ে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের মানিকপাড়া রেঞ্জের কুসুমঘাঁটি বিটের রাসুয়ার দিকে চলে আসে। রবিবার ভোর ৩টে নাগাদ লালগেড়িয়া রাসুয়া রেলগেটের কাছে পৌঁছে যায় হাতিটি।
ওই রেলগেটেই বাধা পেয়ে সেটি ভেঙে রেললাইনে উঠে পড়ে বুনো দাঁতাল। তার পরে অন্য পাশের গেট ডিঙিয়ে কংসাবতী নদীর দিকে চলে যায় হাতিটি। বন দফতরের দাবি, হাতিটি কংসাবতী নদী পেরিয়ে মেদিনীপুর বনবিভাগের চাঁদড়া রেঞ্জে চলে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাসুয়ার ওই রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানের দাবি তিনি গোটা ঘটনা নিজের চোখেই দেখেছেন। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাইরে বসে ছিলাম। রাত ৩টে নাগাদ একটা হাতি আসতেই আমি ভিতরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিষয়টি জানাই।” ওই গেটম্যান জানান, হাতিটি রেলগেট ভেঙে লাইনে ওঠার পরে সেখানে দু’বার ঘুরপাক খায়। তার পরে আবার চলে যায়। তিনি বলেন, “হাতিটি আসার আগেই আপ এবং ডাউন দুই লাইনে মালগাড়ি গিয়েছিল। হাতিটি যখন লাইনে ওঠে, সেই সময়ে কোনও ট্রেন ছিল না।”
খড়গপুর ডিভিশনের এক আধিকারিক জানান, হাতির ধাক্কায় রেলগেট ভাঙলেও ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে কোনও বাধা হয়নি। পরিষেবা স্বাভাবিকই ছিল। ভেঙে যাওয়া রেলগেটটিও মেরামত করা হয়েছে।