Advertisement
E-Paper

‘হাত বেঁধেই তো নিয়ে গিয়েছিল, তা হলে বন্দুক কাড়ল কী করে?’ ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি প্রহ্লাদের মায়ের

মায়ের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে যখন প্রহ্লাদকে বাড়িতে আনা হয়েছিল, তখন তাঁর হাত বাঁধা ছিল। ওই অবস্থায় ছেলে কী ভাবে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২৫
(বাঁ দিকে) গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টারে’ হত প্রহ্লাদ দাস এবং তাঁর মা রেখা দাস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টারে’ হত প্রহ্লাদ দাস এবং তাঁর মা রেখা দাস (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মা রেখা দাস। তাঁর দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে যখন প্রহ্লাদকে বাড়িতে আনা হয়েছিল, তখন তাঁর হাত বাঁধা ছিল। ওই অবস্থায় ছেলে কী ভাবে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রহ্লাদের মা। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, প্রহ্লাদ অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি হত। এমনটা চেয়েছিলেন তাঁরাও। সেই কারণে বার বার থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে ছেলের মৃত্যুর ঘটনা এখনও মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যেরা। বুধবার প্রহ্লাদের মা বলেন, “ওই মেয়েও খুন হয়েছে। আমার ছেলেও খুন হয়েছে। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।” পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় বন্দুক ছিনিয়ে, গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রহ্লাদ। সেই প্রসঙ্গে প্রহ্লাদের মা বলেন, “রাত ২টোর সময় যখন ছেলেকে বাড়িতে আনল, তখন ওর হাত বাঁধা ছিল। সঙ্গে পাঁচ জন পুলিশ অফিসার ছিল। কী করে পিস্তল বার করে গুলি করবে? আপনারা একটু ভেবে দেখুন তো!”

প্রহ্লাদের মা জানান, তাঁর ছেলের সম্পর্কে এলাকার মানুষের কাছে খোঁজখবর নিলেই সবটা জানা যাবে। পরিবারের দাবি, শান্ত স্বভাবের প্রহ্লাদ পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাবে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না তারা। ছেলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রহ্লাদের মা। তাঁর প্রশ্ন, ছেলের ডাকে কেন ওই মেয়েটি চলে এসেছিল? দু’জনের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও সংশয়প্রকাশ করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রহ্লাদ গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরিবারের দাবি, বিয়ের কথা বললে তিনি বলতেন, আগে নিজের ঘরবাড়ি তৈরি করবেন। তার পর বিয়ে করবেন। ছেলে খারাপ কিছু করছে, এমন কিছু বুঝতে পারেননি বলেই দাবি প্রহ্লাদের মায়ের। ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরেই শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রহ্লাদের মা।

গাইঘাটাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল বারাসত মেডিক্যাল কলেজে। মঙ্গলবার রাতে ময়নাতদন্তের পর প্রহ্লাদের মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। উপস্থিত ছিলেন বাবা রামপ্রসাদ দাস। ছেলের দেহে মালা পরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘‘আমার কলজেটা ফেটে যাচ্ছে! জানি আমার ছেলে মারাত্মক অন্যায় করেছে, যার মাফ হয় না।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘সব জানার পরেও বলছি, এই ভাবে নৃশংস হত্যা না-করে অফিসারেরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারতেন। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমাকে ছেড়ে দিন! আমি আর বলতে পারছি না।’’

গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার সময়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করেন অভিযুক্ত প্রহ্লাদ। গাড়িতে করে যখন অভিযুক্তকে নিয়ে থানায় ফেরা হচ্ছিল, তখন বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে তিনি প্রস্রাব করার জন্য গাড়ি থামাতে অনুরোধ করেন। তার পরেই তিনি কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের ওই সূত্রের বক্তব্য, পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালান অভিযুক্ত। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে পুলিশের গাড়িতে।

প্রাথমিক ভাবে ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। সেই সময় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এক জন রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তার পরে আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম পুলিশকর্মীরও প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় ওই হাসপাতালে।

Encounter Gaighata

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy