দেবীর গায়ের রঙ নীল। আর এই রূপেই কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে বছরের পর বছর ধরে পূজিত হন দুর্গা। গায়ের এই রঙের নেপথ্যে রয়েছে এক মজার গল্পও।
কৃষ্ণনগরের নজিরাপাড়ায় চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজোর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বামরাইত গ্রামের সঙ্গে। একসময় সেখানেই শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। পরবর্তী কালে দেশভাগের অস্থিরতার সময় ১৯৪৬ সালে চট্টোপাধ্যায় পরিবার পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে এবং কৃষ্ণনগরের নজিরাপাড়ায় বসবাস শুরু করে। তবে স্থান পরিবর্তন হলেও পরিবারের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যে ছেদ পড়েনি।
আরও পড়ুন:
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দেবী দুর্গার নীল গায়ের রং। শোনা যায়, প্রতিমা তৈরির সময় মৃৎশিল্পীর ভুলে দেবীর গায়ে নীল রং পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের সেই রূপ পছন্দ হওয়ায় নীলবর্ণা দেবীর পুজোই পারিবারিক ঐতিহ্য হয়ে ওঠে। এই গল্প আজও লোকমুখে প্রচলিত।
শুধ দেবীর রূপ নয়, চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পুজোয় রীতিও বিশেষ। বিজয়া দশমীর দিন দেবীকে পান্তা ভাত, কচুর শাক, ডালের বড়া ও গন্ধরাজ লেবু নিবেদন করা হয়। সাধারণ বাঙালি খাবারের মাধ্যমে দেবীর প্রতি ভক্তি নিবেদনের এই প্রথা পুজোটিকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে।