কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে রাজ্য বিজেপি-কে নিয়ে অভিযোগ করবেন বলে ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের। রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে নওদার বিধায়ক, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান জানালেন, ভোট মিটলে তিনি দিল্লি যাবেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ‘আলোচনা’ করবেন। পাশাপাশি, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজ়াগম’ (টিভিকে)-র সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ হুমায়ুনের। ভোটপ্রচারে বাধা, দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছেন। তার পরেও ‘পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না’ বলে অভিযোগ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধানের। তিনি জানান, রেজিনগর উপনির্বাচন জিততে মরিয়া বিজেপি পুলিশ-প্রশাসনকে অনৈতিক ভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালানো হচ্ছে। বিনা কারণে এই হেনস্থা এবং পুলিশি গ্রেফতারির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই প্রশাসনিক দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে দিল্লি যাব।’’ বিজেপির সঙ্গে রফার সম্ভাবনা উড়িয়ে তিনি জানান, দলের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন।
রেজিনগরে উপনির্বাচনের বাকি আর চার দিন। শুক্রবার হুমায়ুন বলেন, “ভারতবর্ষের অনেক রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। বিশাল জনসমর্থন নিয়ে এই রাজ্যেও তারা ক্ষমতায় এসেছে। তা সত্ত্বেও একটিমাত্র উপনির্বাচন জিততে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ভোট লুটের চেষ্টার কী প্রয়োজন রয়েছে? এই উত্তরই আমি দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে জানতে চাইব।” তাঁর সংযোজন, ‘‘উপনির্বাচনের ফলাফলের উপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে না। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, দিল্লি যাচ্ছি।’’
অন্য দিকে, বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজ়াগম’ (টিভিকে)-র নামে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন তৈরির তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও ওই উদ্যোগের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছে টিভিকে। তামিলনাড়ুর ওই দলের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ গড়তে চান হুমায়ুন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখাও করতে চান। তৃণমূলকে ‘ছন্নছাড়া’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মাত্র ছ’মাসের নতুন দলকে পাথেয় করে বিজেপির নীতি এবং বিশেষত সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমার উদ্দেশ্য।’’