Advertisement
E-Paper

ধুলিয়ানে বিজেপি নেতা খুনের ঘটনাস্থলেই এনকাউন্টারে নিহত মূল অভিযুক্ত সামাউল

মঙ্গলবার ধৃত সামাউলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ ও সিআইডির যৌথ দল। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলো সংলগ্ন একটি এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, সুজিতকে এই জায়গাতেই খুন করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৪

—প্রতীকী চিত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগানার বারুইপুরের পরে মঙ্গলবার জোড়া এনকাউন্টার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা ও মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে। গাইঘাটায় ধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুর ১২ ঘণ্টার মধ্যে ধুলিয়ানে এনকাউন্টারে মৃত্যু হল বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সামাউল শেখের। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে সুজিতের খুন ও মূল অভিযুক্তকে পুলিশের করা এনকাউন্টারের ঘটনাস্থল একই।

মঙ্গলবার ধৃত সামাউলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ ও সিআইডির যৌথ দল। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলো সংলগ্ন একটি এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, সুজিতকে এই জায়গাতেই খুন করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলেই পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন সামাউল। আরও অভিযোগ, পুলিশের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে আক্রমণ করার চেষ্টাও করা হয়। এর পরে আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ বাধ্য হয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় সামাউলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্তের মৃত্যুর খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিহত বিজেপি নেতার পরিবার। নিহতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের এ ভাবেই শাস্তি দেওয়া হোক। সামাউলের এনকাউন্টারে খুব খুশি আমি। কিন্তু এখনও আরও দুই জন অভিযুক্ত রয়েছে। আমি চাই তারাও যেন কঠোর শাস্তি পায়।’’ নিহতের ভাই সঞ্জয় মণ্ডল জানান বলেন, ‘‘শুধু সামাউল নয়, এক মহিলা-সহ আরও এক পুরুষ এই খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরা সকলে মিলে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা অন্তত একজনকে শাস্তি দিয়েছে। তবে বাকি দু’জন গ্রেফতার হলে তবেই আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যে জায়গাটিতে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছিল ঠিক সেখানেই পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মূল অভইযুক্তকে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানেই তার এনকাউন্টার হয়েছে। যে স্থানে আমার ভাই মারা গিয়েছিল ঠিক সেখানেই খুনির মৃত্যু হয়েছে ভেবে আমি তৃপ্ত।’’

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার বল্লালপুর ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা সুজিতের দেহাংশ উদ্ধার হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অগস্ট একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ডায়েরি করা হয়। পরে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সুজিতকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমে সামাউল, জনি শেখ ও তাজফিরা বিবিকে গ্রেফতার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সুজিতের সঙ্গে সামাউলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। দু’জনেই সুদের টাকা খাটানোয় জড়িত ছিলেন। সুজিত বড় অঙ্কের টাকা সামাউলকে ধার দিয়েছিলেন। ওই টাকা সামাউল ফেরত দিচ্ছিলেন না। টাকা ফেরত চেয়ে বারবার চাপ দেওয়ায় দু’জনের তীব্র বিবাদ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরে জনি ও তাজফিরাকে সঙ্গে নিয়েই সুজিতকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। একই সঙ্গে সুজিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবারের একজনের চাকরি ও দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে।

Dhuliyan BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy