Advertisement
E-Paper

স্বামীর গ্রেফতারি এড়াতে অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার বয়স ভাঁড়িয়ে হাসপাতালে ভর্তি! ‘ফার্স্টবয়’ মুর্শিদাবাদে নতুন কীর্তি

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নাবালিকার মা হওয়ার পরিসংখ্যানে গোটা পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদ প্রথম স্থানে। দ্বিতীয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। নাবালিকা বিবাহে ‘ফার্স্টবয়’ মুর্শিদাবাদে এখন অনেক অন্তঃসত্ত্বার নামে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। কোনও অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা বলে প্রমাণ হলে গ্রেফতার করা হচ্ছে স্বামীকে। এই প্রেক্ষিতে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায়। অভিযোগ, পুলিশি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে নাবালিকা প্রসূতির বয়স বাড়িয়ে হাসপাতালে ভুয়ো তথ্য দিচ্ছে অনেক পরিবার। বহরমপুরের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে এই ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ বছরের আগে যে মেয়েরা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকার স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করবে বলে ঘোষণা করেছেন। দোষীর সর্বোচ্চ সাজা হতে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। সরকারি সুযোগ, সামাজিক ভাতা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে তাঁদের। তার পর জেলায় জেলায় বাবা হওয়ার পরেই গ্রেফতার হচ্ছেন নাবালিকার স্বামীরা। এই পরিস্থিতিতে বয়স লুকিয়ে কিংবা ভুয়ো তথ্য দিয়ে আইনি পদক্ষেপ এড়ানোর চেষ্টা করছে অনেক পরিবার।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নাবালিকার মা হওয়ার পরিসংখ্যানে গোটা পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদ প্রথম স্থানে। দ্বিতীয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। নাবালিকা বিবাহে ‘ফার্স্টবয়’ মুর্শিদাবাদে এখন অনেক অন্তঃসত্ত্বার নামে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় বলা হচ্ছে, প্রসূতির বয়স ১৯ কিংবা ২০ বছর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশে খবর দিচ্ছেন। সেই সূত্রেই উঠে আসছে ভুয়ো নথি দেওয়ার অভিযোগের কথা।

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি কিছু ছবি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানিয়ে গিয়েছে, ফতেমা খাতুন (নাম পরিবর্তিত) নামের এক নাবালিকার আধার কার্ডে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে ১৪ মার্চ ২০০৮ দেখানো হয়েছে। এই বয়সের হিসাব অনুযায়ী, তিনি নাবালিকা নন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে আধার কার্ডটি ভুয়ো। ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেসরকারি নার্সিংহোম এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রসবকালীন চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বহরমপুরের এক নার্সিংহোমের চিকিৎসক বলেন, ‘‘সরকারি পরিচয়পত্র যেমন, আধার কার্ডের তথ্য পরিবর্তন বা ভুয়ো কার্ড তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বয়স বাড়িয়ে সেই কার্ড বানিয়ে নার্সিংহোমগুলিতে জমা দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা খালি চোখেই বুঝতে পারছি কার্ডগুলি ভুয়ো। এমনকি, রোগী দেখলেও তো বোঝা যায়। বুঝতে পারছি প্রসূতি আসলে নাবালিকা। কিন্তু জমা দেওয়া পরিচয়পত্র বলছে অন্য কথা।’’ পুলিশ জানিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জ, সুতি এবং সামশেরগঞ্জ থানা এলাকাতেও বেশ কয়েকটি এমন অভিযোগ মিলেছে। এ বার সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

Marriage Child Marriage Pregnancy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy