রক্ষকই কি তবে ভক্ষকের ভূমিকায়? পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (ডিআইবি) অফিসে বসেই চলছিল পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের নামে বেআইনি টাকা আদায়ের কারবার। আর সেই কারবার চালানোর অভিযোগ উঠল দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। সোমবার নদিয়ার রানাঘাট পুলিশ জেলার অধীনে থাকা হরিণঘাটা ডিআইবি অফিসে অভিযান চালিয়ে ওই দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)।
পুলিশ ও এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নদিয়ার হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত নিমতলা বাজার এলাকার এক বাসিন্দা দুর্নীতিদমন শাখার কাছে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের মতো একটি সাধারণ সরকারি কাজের জন্য হরিণঘাটা ডিআইবি অফিসের ওই দুই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা বেআইনি ভাবে দাবি করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ ঘুষ না দিলে ভেরিফিকেশন আটকে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগ পাওয়ামাত্রই নড়েচড়ে বসে এসিবি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করার পর সোমবার ওই ডিআইবি অফিসে একটি ‘ট্র্যাপ অপারেশন’ বা ফাঁদ পাতার ছক কষেন দুর্নীতিদমন শাখার তদন্তকারী আধিকারিকেরা। পূর্বপরিকল্পনামতো নির্দিষ্ট সময়ে ওই অভিযোগকারী ১০ হাজার টাকা নিয়ে হরিণঘাটা ডিআইবি অফিসে পৌঁছোন। সেখানে অভিযুক্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার যখন নিশ্চিন্তে তাঁর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই সাদা পোশাকে থাকা এসিবি আধিকারিকেরা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। সরকারি পরিষেবা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ ভাবে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়েই ফের প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে ডিআইবি-র মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দফতরে সিভিক ভলান্টিয়ারদের এই দৌরাত্ম্য প্রশাসনিক নজরদারির অভাবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই দুর্নীতির শিকড় কত দূর বিস্তৃত এবং ডিআইবি অফিসের ভেতরের আর কেউ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কি না, তা বিশদে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ঠিক একই কায়দায় পূর্ব মেদিনীপুর ডিআইবি অফিসে অভিযান চালিয়েছিল এসিবি। সেখানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে সেখানেও ফাঁদ পাতেন তদন্তকারীরা। ঘুষের ওই এক হাজার টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় পূর্ব মেদিনীপুর ডিআইবি অফিসের সঙ্গে যুক্ত এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে।