Advertisement
E-Paper

১১ বছর পর ওয়াশিংটনে শি, স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প! আলোচনায় কৃত্রিম মেধা থেকে তাইওয়ান, বাণিজ্যযুদ্ধ-বিরতির মেয়াদ কি বাড়বে ?

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিমানবন্দরে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাবেন খোদ ট্রাম্প। নৈশভোজে থাকছেন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোসেরা। হোয়াইট হাউসে হবে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। আলোচনায় থাকবে এআই, তাইওয়ান প্রণালী থেকে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩৫

গ্রাফিক : আনন্দবাজার ডট কম।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ফের মার্কিন মুলুকে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা তিন দিনের এই সরকারি সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রস্তুতি। গত মে মাসে বেজিঙে সাক্ষাতের পর চলতি বছরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিতীয় মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠক এটি। কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ়’-এর টারম্যাকে দাঁড়িয়ে শি-কে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

চিনের বিদেশ মন্ত্রক ও হোয়াইট হাউসের দেওয়া যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শি-র সফর চলবে। বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে পূর্ণ সামরিক সম্মান ও ২১ তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে চিনের প্রেসিডেন্টকে। এর পর রোজ় গার্ডেনে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পর ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে। ওই দিন রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন টেসলা-প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, অ্যাপল-কর্তা টিম কুক এবং এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও প্রযুক্তিকর্তারা। প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ট্রাম্পের চিন সফরেও তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন মাস্ক, কুক এবং হুয়াং। শুক্রবার সকালে অধিবেশন, বিকেলে চা-চক্র এবং ‘ন্যাশনাল আর্কাইভস’ পরিদর্শনের পর চিনের প্রতিনিধিদল দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে।

দুই মহাশক্তির এই মহাবৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানায় একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ট্রাম্প ও শি-র মধ্যে যে এক বছরের ‘নড়বড়ে’ বাণিজ্যযুদ্ধ-বিরতি চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। এই চুক্তি টিকিয়ে রাখাই এখন দুই দেশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, আমেরিকা ও চিনের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস, আমেরিকার কাছ থেকে চিনের বিপুল কৃষিপণ্য কেনা এবং বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনাবেচার চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছোনোর চেষ্টা চালাবে দুই শিবির। একই সঙ্গে, কৃত্রিম মেধা (এআই) সুরক্ষার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ‘এআই ডায়ালগ’ রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য স্থির করেছেন দুই নেতা। এর মধ্যে থাকবে উন্নত এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ জরুরি ‘সঙ্কট-বিজ্ঞপ্তি চ্যানেল’ (ক্রাইসিস-নোটিফিকেশন চ্যানেল) তৈরি করা।

বাণিজ্যযুদ্ধ, জিনজিয়াং প্রদেশে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে লড়াই— আমেরিকা ও চিনের মধ্যে সংঘাতের তালিকা নেহাত ছোট নয়। চিনা রোবোটিক্স ও পাওয়ার ইনভার্টারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চিনা সংস্থাগুলির ওপরও কড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ছেড়ে কথা বলেনি বেজিংও। তড়িঘড়ি পাল্টা নিষেধাজ্ঞার পথে হেঁটেছে তারা। আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ চুম্বক রফতানি চিন সম্প্রতি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। বৈঠকে ওয়াশিংটন এই বিষয়টিও তুলতে পারে। পাল্টা হিসেবে উচ্চ প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির যন্ত্রাংশ রফতানিতে আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে, তা প্রত্যাহারের দাবি তুলতে চলেছে বেজিং। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ করিডরের স্থায়িত্ব, সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, তাইওয়ান প্রণালীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তবে সফরের আগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করতে তৎপর দুই দেশই। গত সপ্তাহেই মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। চিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউয়ের সঙ্গে বৈঠকেও বাধা দূর করে ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে বেজিং।

অন্য দিকে, নিজের আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করার কৌশল থেকে সরেননি শি জিনপিং। গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে তিনি কৃত্রিম মেধা নিয়ে বৃহত্তর সহযোগিতার ডাক দেন। মার্কিন নীতির পরোক্ষ সমালোচনাও করেন। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর ওয়াশিংটনের মহাবৈঠকের দিকে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরেই আরও দু’বার মুখোমুখি হবেন ট্রাম্প ও শি— নভেম্বরে দক্ষিণ চিনের শেনজেনে ‘অ্যাপেক সিইও সামিট’ এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে।

Xi Jinping Donald Trump US China

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy