Advertisement
E-Paper

দীপাবলিতে থাকবে আলোর রোশনাই, হতাশার মাঝেও ‘আলো’ খুঁজতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

মাটির প্রদীপ মানে শুধুই আচার ও উৎসব নয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু শিল্পীর জীবিকা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০১:০৭
তৈরি হচ্ছে মাটির প্রদীপ।

তৈরি হচ্ছে মাটির প্রদীপ। — নিজস্ব চিত্র।

এক সময় দীপাবলি আর মাটির প্রদীপ ছিল প্রায় সমার্থক। বাড়ি হোক বা মন্দির কিংবা অলিগলি- সেজে উঠত প্রদীপের আলোয়। ধীরে ধীরে সেই জায়গায় এসেছে টুনি, এলইডি-সহ বাহারি আলো। বৈদ্যুতিন আলোর দাপটে ফিকে হচ্ছে প্রদীপের কদর। যার জেরে অভাব বেড়েছে মৃৎশিল্পীদেরও। তবুও দীপাবলির আগে নতুন করে আশা দেখছেন কোচবিহারের মৃৎশিল্পীরা। ব্যস্ততাও তুঙ্গে।

শুধু চাহিদা কমাই নয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিও নতুন করে সমস্যায় ফেলেছে শিল্পীদের। মাটি ও জ্বালানির দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি প্রদীপ বিক্রির দাম। চলতি বছরে বেড়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনাও। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় কাঁচা প্রদীপ শুকোতেও সমস্যা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরাত অনুযায়ী প্রদীপ তৈরি করে তা সরবরাহ করা নিয়েও চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা।

শুকনো করার জন্য সারি দিয়ে রাখা আছে মাটির প্রদীপ।

শুকনো করার জন্য সারি দিয়ে রাখা আছে মাটির প্রদীপ। — নিজস্ব চিত্র।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ কম। সেই বিষয়েও চিন্তিত প্রবীণ শিল্পীরা। চাহিদা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই এই পেশায় আসতে চাইছেন না। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

শিল্পীরা জানাচ্ছেন, আগে উৎসবের মরসুমে ৪০ থেকে ৫০ হাজার প্রদীপ তৈরির বরাত মিলত। এখন সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজারে। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি কমেছে রোজগারও। মৃৎশিল্পী অমল পালের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এক সময় মাটির প্রদীপের যথেষ্ট চাহিদা ছিল। বর্তমানে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার বাড়ায় প্রদীপের বিক্রি অনেকটাই কমেছে। তবুও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শিল্পকে ছাড়তে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। খুব বেশি লাভ না হলেও পূর্বপুরুষদের পেশা আমরা ধরে রেখেছি।’’

মাটির প্রদীপ মানে শুধুই আচার ও উৎসব নয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু শিল্পীর জীবিকা। সমাজের কাছে শিল্পীদের আবেদন, অত্যাধুনিক বাহারি আলোর সঙ্গে কেনা হোক মাটির প্রদীপ, ডিবরি-সহ মৃৎশিল্পের বিভিন্ন দ্রব্য।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy