গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে মহামিছিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মসূচিতে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন দফতর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। নাম না-করে কটাক্ষ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জানান, তাঁরা এখন দিল্লিতে গিয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছেন। সঙ্গে রয়েছে বামেরা। মিছিলে তাঁর পাশাপাশি পা মেলান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষেরা।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে এয়ার ভিউ মোড়ে মিছিল শেষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এরা সব হারা! এক জায়গায় গিয়েছে দিল্লিতে। এরা চায় বাংলাদেশের মতো ভারতেও হোক জামাতি, মৌলবাদী, দিমাগি নকশাল, মাওবাদী, জঙ্গি, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি। দেশকে টুকরো করতে চাওয়া কমিউনিস্ট আর উৎখাত হয়ে যাওয়া পিসি-ভাইপো এখন দিল্লিতে গিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়।’’ তার পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দিমাগি নকশাল, জিহাদি, জঙ্গি, আরশোলা, ছারপোকা, ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু বহনকারী মশা— এদের কী দিয়ে ঠান্ডা করতে হয়? ক্ষমতায় থাকতে গেলে ভোটে লড়তে হবে! আর নরেন্দ্র মোদীজি যতক্ষণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তোমরা কোনও ভোটে জিততে পারবে না!’’
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০১৪ সালে পৃথিবীতে ভারত ১২তম অর্থনীতির দেশ ছিল, আজ আমরা তৃতীয় স্থান অর্জনের দিকে এগোচ্ছি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অতিমারি শুরু হওয়ার ১১ মাসের মধ্যে তিনটে প্রতিষেধক কার নেতৃত্বে বেরিয়েছিল? ৫৫টি গরিব দেশকে বিনামূল্যে টিকা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, তাই তিনি আজ বিশ্বনেতা!’’ সেখানেই থামেননি শুভেন্দু। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে পড়া ৩০,০০০ ভারতীয় বাচ্চাকে ফেরাতে মোদীজি ফোন করলেন— ‘২৪ ঘণ্টা যুদ্ধ বন্ধ থাকবে, মিসাইল ছুড়বেন না, আমার এয়ারফোর্স যাবে।’ দু’পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ রাখল আর আমাদের বাচ্চারা বাড়ি ফিরে এল।’’
কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলিকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘ওরা সব ৪জি, ৩জি, ২জি পার্টি! ৪জি হল নেহরু, ইন্দিরা, রাজীব ও রাহুল। ৩জি হল শেখ আবদুল্লা, ফারুক ও ওমর আবদুল্লা এবং করুণানিধি, স্ট্যালিন, উদয়নিধি। আর ২জি-র তো ছড়াছড়ি— পিসি-ভাইপো, মুলায়ম-অখিলেশ, লালু-তেজস্বী! মোদীজির কিচ্ছু নেই! আগেও দেশ, পিছনেও দেশ!’’
আসন্ন পুরভোট নিয়েও আশাবাদী শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের মতো কলকাতাতেও জয় হবে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতেও হবে! ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জয়ের পর এ বার কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়ি সাফ করব।’’ উত্তরবঙ্গ নিয়েও প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘উত্তরবঙ্গকে বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ নয়। রায়গঞ্জে এমস, জলপাইগুড়িতে ক্যানসার হাসপাতাল, বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মেডিক্যাল কলেজ হবে। শিলিগুড়িতে আইআইটি বা আইআইএম-এর চিন্তাভাবনা চলছে। হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় এয়ারপোর্ট চালু হবে। সামসিং-সহ বন্ধ থাকা ২১টি চা বাগান খুলে দেওয়া হবে।’’ তিনি জানান, রাজ্যবাসী ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা পাবেন।
আগামী রাস পূর্ণিমায় কোচবিহারে থাকবনে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাওয়াইয়া ও বৈষ্ণব শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘‘এ সরকার আপনাদের সরকার। আরশোলা, ছারপোকা, জামাতি তৃণমূল ও নাস্তিক কমিউনিস্টদের থেকে দূরে থাকবেন।’’
মিছিলের পরে পুর-কমিশনার, প্রশাসক-সহ শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু-সহ পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক থেকে বেরিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সাংসদ রাজু জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ের কাজ শুরু হবে শীঘ্রই। তাতে অনুমোদন আগেই দিয়েছিল রাজ্য সরকার। অন্য দিকে, ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলির মেরামতি ও আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বৈঠকে। লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক স্টেডিয়াম করে গড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করায় অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার।