টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিঙে ভূমিধস! একেবারে হাসপাতালের উপর হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল পাহাড়ের অংশ। পাথরের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক জন। তাঁকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে রাংলিরাংলিয়ট ব্লকের প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাকদা ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ আচমকা সেখানে ভূমিধস হয়। পাহাড়ের একাংশ ধসে হাসপাতালের উপর আছড়ে পড়ে। বড় বড় পাথরের চাঁই হাসপাতালের ছাদ ভেঙে ভিতরে ঢুকে এসেছিল। কিন্তু হাসপাতালের ওই অংশে কোনও রোগী ছিলেন না। ফলে অল্পের জন্য বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে খবর, ধসের কারণে তাকদা হাসপাতালের ভিতরে অন্তত ছ’জন আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে রোগীর পরিজনদের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মীরাও ছিলেন। কিছু ক্ষণের চেষ্টায় পাঁচ জন কোনও রকমে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু এক জন বেরোতে পারেননি। তিনি পাথরের চাঁই এবং হাসপাতালের কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে সেখানেই চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়। পরে তাঁকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপাতত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
জখম ব্যক্তি তাকদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর পরিজন বলে জানা গিয়েছে। ধসের কারণে হাসপাতাল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টির উপর নজর রেখেছে জেলা প্রশাসন।
দার্জিলিঙে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে। ঝড়বৃষ্টির কারণেই ধসের সম্ভাবনা বেড়েছে পাহাড়ে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বৃষ্টির কারণেই ধস নেমেছে তাকদা হাসপাতালের কাছে। ওই হাসপাতালের বাকি রোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শুক্রবার ভোরের ঘটনা।