কোনও পোস্টারে লেখা, ‘বিরিয়ানি খান। কিন্তু হিন্দুর হোটেল থেকে’, কোনওটিতে লেখা, ‘হিন্দুর দোকান থেকে মাংস কিনুন’। পোস্টারগুলি সাঁটানো হয়েছে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বাড়ির সামনে এবং আশপাশের দেওয়ালে। রবিবার ওই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে শিলিগুড়ি শহরে। পুজোর আগে আমিষ-বিতর্কে নয়া সংযোজন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ওই পোস্টার।
মহালয়ার পরদিন সকাল সকাল শিলিগুড়ি শহরের ভারতনগর এলাকায় বেশ কিছু পোস্টার চোখে পড়ে স্থানীয়দের। শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্করের বাড়ির সামনেও ওই একই রকমের পোস্টার দেখা গিয়েছে। শঙ্করদের পাড়ায় রয়েছে তরুণতীর্থ ক্লাব। ওই ক্লাবের পুজো ময়দানেও একই পোস্টার। বার্তা দু’রকম। একটিতে লেখা, ‘হিন্দুর দোকান থেকে মাংস কিনুন’, অন্যটিতে লেখা, ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান। কিন্তু হিন্দুর দোকান থেকে’। তলায় লেখা হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। পুজোমণ্ডপের বাইরে এমন পোস্টার দেখে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করেছেন বিরোধীরা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) ‘প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি’ মন্তব্য ঘিরে জোর বিতর্ক হয়েছে। যদিও এমন পোস্টার নিয়ে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই বলে মনে করছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির বক্তব্য , হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতেই উদ্যোগ। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ির নেতা অভিষেক দাস বলেন, ‘‘হ্যাঁ, পোস্টার আমরাই দিয়েছি। শুধুমাত্র ভারতনগর নয়, শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের সামনে এই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। নেশামুক্তির কথাও বলা হয়েছে৷ হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এই পোস্টারগুলোর মাধ্যমে হিন্দু ঐক্যের বার্তাই প্রচার করতে চাইছি।’’ পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পোস্টার নিয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। শঙ্করের মন্তব্য, ‘‘আমি জানি না, কারা এই পোস্টার দিয়েছেন। যাঁরা সাঁটিয়েছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন।’’
তবে শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এগুলো পরিকল্পনামাফিক প্রচারকৌশল। তিনি বলেন, ‘‘ওই সংগঠনগুলো আরএসএস দ্বারা পরিচালিত। বিজেপি হল আরএসএসের ফ্যাসিবাদী নীতি অনুসরণকারী একটি দল। এই দলগুলো মানুষের মধ্যে জাতি এবং ধর্মের নামে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে৷ কে কী খাবেন, কোথা থেকে জিনিস কিনবেন, কোথায় কিনবেন না, তিনি বাঙালি, হিন্দু না মুসলমান সব তাদের জানাতে হবে। এমন জঘন্যতম প্রচারের সম্মুখীন আমরা কখনও হইনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এখন এ সব দেখতে হচ্ছে। কারণ পিছনে বিজেপি রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে এই সংগঠনগুলো আরও সাহস এবং প্রশ্রয় পাচ্ছে। পুলিশকে বলব, শান্তি ও সম্প্রীতি যাতে নষ্ট না হয়, তারা যেন সে ব্যাপারে উদ্যোগী হয়।’’
আরও পড়ুন:
শহরের আর এক প্রাক্তন মেয়র এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূলের গৌতম দেবের মন্তব্য, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক! মানুষ এগুলোর বিচার করবেন। আমাদের রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ। সংবিধানের অবমাননা করে পুজোর ঠিক আগের মুহূর্তে এমন প্রচার দুর্ভাগ্যজনক। আশা করব, পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করবে।’’