মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভুটানের গাসা জেলার চিন্তাফু হিমবাহ হ্রদ (মোচু নদীর উৎসস্থল) ভেঙে পড়েছে। বন্যায় ফের বিধ্বস্ত হতে পারে ভুটানের একাধিক জায়গা। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে সতর্ক করল ভুটান। সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফেও। সতর্ক উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জেলা। প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে পাহাড়ের সমস্ত নদীর জলস্তরের উপরে। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের তরফে সমস্ত থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিদিন সতর্ক থাকার জন্য। পাশাপাশি, অসমের ধুবড়ি জেলা ও সংলগ্ন অঞ্চলেও রয়েছে বন্যার আশঙ্কা।
চিন্তাফু হিমবাহ হ্রদ। ছবি: সংগৃহীত।
জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। নাগরাকাটা-সহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাইক প্রচার। সচেতন থাকার পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নদীতে জলস্তর বাড়তে দেখলে বা কোনও বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলেই দেরি না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য। দুই জেলার পুলিশ সূত্রে খবর, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদেরকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকেও। বন্যা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের লক্ষ্যে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তরফে। বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছে সংকোশ নদীতে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের অক্টোবরে অতিবৃষ্টির জেরে পড়শি দেশ ভুটানের সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গও।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। —নিজস্ব চিত্র।
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ‘‘তুফানগঞ্জ, বক্সিরহাট ও অসম সংলগ্ন এলকার বাসিন্দা-সহ সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সংকোশ নদী ও শাখা নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে ’’ তিনি বলেন, ‘‘ভোর রাতের দিকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ইতিমধ্য়েই প্রস্তুত রয়েছে রাজ্য ও জেলার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।’’
বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। ছবি: সংগৃহীত।
বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জঙ্গল এলাকা সংলগ্ন কুমারগ্রাম-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভুটানে একটি বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। প্রতিবেশীদের সতর্ক করুন। নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তাঁর সতর্কবার্তা, ‘‘পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। হাতি-সহ বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।’’ সতর্ক থাকার পাশাপাশি মন্ত্রীর বার্তা, গুজবে কান না দেওয়ার জন্য।তাঁর বার্তা, নেপালের মতো পরিস্থিতি যাতে না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
অন্যদিকে, ভুটানের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণে রয়েছে তাশিথাং এলাকার মোচু নদীর জলস্তর। মোচু নদীর সঙ্গে সংকোশের (ভুটানে পুনাৎসাংচু নদী) সংযোগ রয়েছে বলেই উত্তরবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় চলছে মাইক প্রচার। —নিজস্ব চিত্র।
পড়শি দেশ ভুটানের ওয়াকিলা পর্বতের কাছে লায়া অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির জন্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, হ্রদের বাঁধ ছাড়াও প্রধান সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফেও ভুটানে থাকা ভারতীয় নাগরিকেদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।