Advertisement
E-Paper

এবিভিপি বনাম এসএফআই! দর্শনের ক্লাস থেকে পড়ুয়াকে ডেকে হেনস্থার অভিযোগ, রণক্ষেত্র রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে খবর, গন্ডগোলের সূত্রপাত দর্শন বিভাগের একটি ক্লাস চলার সময়। অভিযোগ, ক্লাস থেকে জাহাঙ্গির আলম নামে এক ছাত্রকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান এবিভিপি-র কয়েক জন। ওই ছাত্রের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে হেনস্থা করা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৫
Raiganj University

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ! — নিজস্ব চিত্র।

রাষ্ট্রীয় সমাজ সেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন বনাম বাম ছাত্র সংগঠন! মঙ্গলবার এবিভিপি এবং এসএফআই সংঘর্ষে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন জখম হয়েছেন। পুলিশের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে মারামারি শুরু হয় দুপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে খবর, গন্ডগোলের সূত্রপাত দর্শন বিভাগের একটি ক্লাস চলার সময়। অভিযোগ, ক্লাস থেকে জাহাঙ্গির আলম নামে এক ছাত্রকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান এবিভিপি-র কয়েক জন। ওই ছাত্রের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে হেনস্থা করা হয়। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই সমর্থকেরা সেখানে গিয়ে জড়ো হন। জাহাঙ্গিরের খোঁজ না-পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাঁরা। সেই সঙ্গে ওই ছাত্রের খোঁজ শুরু হয়। ঠিক তখনই দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

এবিভিপি-র অভিযোগ, এসআফআইয়ের কয়েক জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের একাংশ ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অশান্তি পাকিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঠিক একই অভিযোগ করেছে এসএফআই। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, দুই পক্ষের মারামারিতে কমপক্ষে তিন জন জখম হয়েছেন। অন্য দিকে, দর্শনের ক্লাস থেকে যাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি, সেই ছাত্রকে পরে পাওয়া গিয়েছে। তাঁর দাদা মুস্তাফির আলমের অভিযোগ, ‘‘এবিভিপি-র সমর্থকেরা আমার ভাইকে মারধর করে আটকে রেখেছে।’’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংঘর্ষে আহত এবিভিপি-র এক সমর্থকের দাবি, এসএফআই পরিকল্পিত ভাবে বহিরাগতদের নিয়ে গিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছে।

এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক দীপ দত্ত বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ভাবে এসএফআইয়ের পায়ের তলায় মাটি নেই। নিজেদের প্রচারের আলোয় আনতে নানা অপচেষ্টা করছে তারা। আমাদের সংগঠনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। এ ভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না।’’ তাঁর অভিযোগ, তাঁদের দুই ‘নিরস্ত্র কার্যকর্তার’ উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভেঙে হামলা চালিয়েছেন এসএফআইয়ের সমর্থকেরা। তার পরেই তাঁরা ‘প্রতিরোধ’ করেছেন।

অভিযোগ উড়িয়ে এসএফআইয়ের শহর কমিটির সদস্য বিবেক বর্মনের মন্তব্য, ‘‘কোনও বহিরাগত এই ঘটনায় জড়িত নন। ওঁদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সমর্থকেরা গন্ডগোলের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের উপর আচমকা হামলা চালানো হয়।’’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কী হয়েছিল, কেন গন্ডগোল, সব খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।

RSS SFI Raiganj University

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy