খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এ বার রেশন ডিলারদের মাধ্যমে বিকল্প বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিল রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা এক চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের রেশন দোকানগুলিকে ব্যবহার করে চাল-গমের অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে শুরু করে জনপোষণ কেন্দ্র, জনঔষধি কেন্দ্র, পাঁচ কেজির নন-সাবসিডাইজড গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করা হোক। সংগঠনের দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে জরুরি পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার ওই চিঠিতে সর্বভারতীয় সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেছেন, রাজ্যে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধি রোধের সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতেই রেশন ডিলারদের সংগঠন এই প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, রেশন ডিলারদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছনোর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর জনপরিষেবা গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রস্তাবের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে, চাল ও গমের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টাইড-ওভার অ্যালোকেশন’-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল-গম সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলনামূলক কম দামে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি রেশন দোকানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জনপোষণ কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠন। এর ফলে খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সুলভ মূল্যে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংগঠনের কর্তারা।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়াও পাঁচ কেজি ওজনের নন-সাবসিডাইজড গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা এবং রেশন দোকান থেকে সমস্ত ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় নীতিকে মর্যাদা দিয়ে এই ধরনের বহুমুখী বিপণন ব্যবস্থা চালু করা হলে রেশন ডিলারেরা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি কার্যকর বণ্টন ব্যবস্থার রূপরেখাও তৈরি করতে প্রস্তুত রেশন ডিলারেরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে রাজ্যের সামগ্রিক প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংগঠনের দাবি। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে এই প্রস্তাবগুলি বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। চিঠির প্রতিলিপি খাদ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী, মুখ্যসচিব-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।