Advertisement
E-Paper

বাঁকুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত‍্যু সেই পুলিশ ইনস্পেক্টর জয়ন্তের! দুর্ঘটনা না আত্মহত্যা, এখনও স্পষ্ট নয়

বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ডিআইবি ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্ত। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছে ওই ইনস্পেক্টর দেহ উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, আরণ্যক এক্সপ্রেসের চাকায় কাটা পড়েন জয়ন্ত।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:১৩
Police inspector dies after being run over by a train in Bankura

পুলিশ ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পাল। — ফাইল চিত্র।

এক পুলিশ ইনস্পেক্টরের ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম জয়ন্ত পাল। রেললাইনের ধারে তাঁর দেহ পড়ে ছিল। এটি দুর্ঘটনা, না কি আত্মহত‍্যা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বছরখানেক আগে হাওড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এই জয়ন্তই। সেই সময় সংবাদ শিরোনামে এসেছিল জয়ন্তের নাম।

বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর (ডিআইবি) পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্ত। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছে ওই ইনস্পেক্টরের দেহ উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, আরণ্যক এক্সপ্রেসের চাকায় কাটা পড়েন জয়ন্ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্রেনে কাটা পড়েই তাঁর মৃত্যু হতে পারে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে।

লাইন পারাপারের সময় ট্রেনে কাটা পড়ে জয়ন্তের মৃত্যু, না কি তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইনস্পেক্টরের মৃত্যুর নেপথ্যে কারণ নিয়ে ধন্দে পুলিশ। জয়ন্তের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পরিবারের পাশাপাশি তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষ পাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত। সেই সময় তিনি হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। জয়ন্তের বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল। ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি পাওয়া যায়। ওই গাড়িটিকে আটক করা হয়েছিল। ঘটনার সময় ওই আধিকারিকের সঙ্গে এক মহিলা ছিলেন। অকুস্থলে ওই যুবতীর উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল রহস্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, যুবতীর নাম-পরিচয় জানতে পারেন তদন্তকারীরা। যুবতী হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল জয়ন্তের। এলাকার অনেকে দাবি করেন, জয়ন্ত এবং তাঁর সঙ্গিনীকে প্রায়ই মঠের উল্টো দিকে একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে আসতে দেখা যেত। অন্য দিকে, যুবতীর মায়ের দাবি ছিল, তাঁর মেয়ে জয়ন্তকে চেনেন না। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই যুবতী। আরও তিন জন ছিলেন তাঁর সঙ্গে।

পরে জয়ন্তকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম নির্দেশিকা জারি করে জয়ন্তকে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, থানা থেকে বেরোলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাওয়াই নিয়ম। জয়ন্ত সেই সময় তা করেননি। কাউকে কিছু না-জানিয়েই কর্তব্যরত অবস্থায় চণ্ডীতলা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ভিন্‌জেলায়।

হুগলী জেলার খানাকুল,চন্ডীতলা, সিঙ্গুর-সহ একাধিক থানার দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর (ডিআইবি) পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্ত।

bankura

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy