তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের বিরোধিতা করে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বার বার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। অভিষেকের মামলাকে তেমন ‘গুরুত্ব’ দেয়নি হাই কোর্ট। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মঙ্গলবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টকে অনুরোধ করব অভিষেকের আবেদনটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে!
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি ছিল অভিষেকের মামলার। সেই শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী শোয়েব আলম জানান, ব্যক্তিগত তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে গত সেপ্টেম্বরে তাঁর মক্কেল কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শোয়েবের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ তথা তদন্তকারী সংস্থা এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তদন্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর প্রকাশ্যে আসছে। এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে। সেগুলি বন্ধ করা হোক।
সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেল হাই কোর্টে মামলা করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। প্রথমে একটি বেঞ্চে মামলা করা হয়েছিল। তবে সেই বেঞ্চের বিচারপতি মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তার পরে অন্য বেঞ্চেও বার বার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। কিন্তু বিচারপতি কান দেননি। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টে তাঁর মক্কেল আবেদন করেছেন বলে জানান অভিষেকের আইনজীবী।
মামলাকারীর বক্তব্য শোনার পর মামলাটি নিয়ে বিবেচনা করার জন্য হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও মামলার বিষয়ের মধ্যে ঢোকেনি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ শুধু জানায়, হাই কোর্টকে অনুরোধ করব অভিষেকের আবেদনটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে। আগামী ১৬ নভেম্বর পুজোর ছুটির পরে হাই কোর্ট খুলবে। তখন দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন করতে পারবেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কখনও পুলিশ, কখনও সিআইডির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীরা ভিতরে তাঁকে কী কী প্রশ্ন করেছেন, তা পরবর্তী কালে বাইরে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমেই সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কেন এ ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, সেই অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক।
আরও পড়ুন:
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য ছিল, তথ্য বাইরে এলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এমনকি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দোষী বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর সুনাম, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। হাই কোর্টে অভিষেকের আবেদন ছিল, তদন্ত সংক্রান্ত ওই সব তথ্য পুলিশ যাতে বাইরে প্রকাশ না করে সেই নির্দেশ দেওয়া হোক। অথবা, আদালত জানিয়ে দিক, তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে এবং সম্মানহানি হয় এমন সব খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকবে সংবাদমাধ্যম।
প্রথমে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলাটি ছেড়ে দেন। তিনি জানান, ওই মামলাটি তাঁর এজলাসের বিচার্য বিষয় নয়। পরে মামলাটি যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তিনি মামলাটি দ্রুত শুনতে রাজি হননি। হাই কোর্ট জানায়, এখনই মামলাটি দ্রুততার সঙ্গে শুনানি করতে হবে এমন প্রয়োজনীয়তা নেই। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন অভিষেক। মঙ্গলবার সেই মামলা নিষ্পত্তি করে দিয়ে হাই কোর্টে পাঠিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।