বাঙালি কাকে বলে? বাঙালি কারা?
বাংলায় কথা বললে? বঙ্গবাসী হলে? বাংলার হয়ে ক্রিকেট বা ফুটবল খেললে? বাঙালির চরিত্রে অভিনয় করলে? আনন্দবাজার ডট কম বরাবরই কোনও কঠোর সীমানা বেঁধে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। প্রতি বছর ‘বেস্ট’ বাঙালিদের মনোনয়নেও থাকে সেই বৃহত্তর বঙ্গপরিধির ছাপ।
এ বছরেও তেমন ভাবেই ঘোষ, বসু, সরকার, সিংহ, চন্দ্র, অধিকারীদের সঙ্গে রয়েছেন বাঙুর কিংবা গাঁধীও। এ বার বছরের বেস্ট সম্মান দেওয়া হল ন’জনকে। এই নবরত্ন ছড়িয়ে রয়েছেন নানা ক্ষেত্রের পেশা এবং নেশায়। রাজ্য, দেশ বা বিশ্বের বিবিধ প্রান্ত তাঁদের কর্মস্থল।
যেমন শিল্পী কিংশুক সরকার। শান্তিনিকেতনকে আবার নতুন করে জাপানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। নিজে জাপানে থেকে সেখানকার শিল্পীদের কাজের খুঁটিনাটি শুধু নয়, নবযুগে সে সভ্যতার জীবনবোধও বয়ে এনেছেন এ কালের শান্তিনিকেতনে। শান্তিনিকেতন ঘরানার শিল্প বলে, শিল্পের বাঙালি ধারা বলে পরিচিত যা, তা কিন্তু বিদেশি ভাবনায় প্রভাবিত। রবীন্দ্রনাথের প্রেরণায় এবং অবনীন্দ্রনাথের উৎসাহে জাপানি শিল্পীদের শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসা হয়েছিল। এসেছিল ক্যালিগ্রাফি আর ওয়াশ টেকনিক। কিন্তু সে শান্তিনিকেতন এখন নেই। অনেক বছর বাদে বাঙালির শিল্পবোধে সেই জাপানি প্রভাবের নতুন ভাবোদয় ঘটছে কিংশুকের হাত ধরে। নিজের হাতে কাগজ বানিয়ে, পাথর গুঁড়ো করে তা দিয়ে রং বানিয়ে অবন-ওকাকুরার শান্তিনিকেতনকে শিল্পের নতুন দিগন্ত দেখাচ্ছেন তিনি। বারুদ দিয়ে ছবি আঁকার পথ দেখিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজও করছেন। সব মিলিয়ে ‘বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট’-এ যেন নবজাগরণ ঘটছে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আধুনিক শিল্পীরা অনেকে শিল্পী হিসেবে মানতে চান না— সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিংশুক বলেন, “আমরা তো মানার কেউ না। আমরা যদি নিজের শিকড়কেই অস্বীকার করি, আমার মতে সেটাই একটি বোকা বোকা বিষয়।” শুক্রবার কিংশুকের হাতে বছরের বেস্ট সম্মান তুলে দিলেন নৃত্যশিল্পী মমতাশঙ্কর এবং অভিনেত্রী জয়া আহসান।
(বাঁ দিকে) চিত্রশিল্পী কিংশুক সরকার এবং নৃত্যশিল্পী মমতাশঙ্কর (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।
রূপমঞ্জরী বা হটু বিদ্যালঙ্কার বাঙালির ইতিহাসে এক মেধাবিনী বহুশাস্ত্রবিদের নাম। আজকের রূপমঞ্জরীর নামকরণে কি দ্বাদশ শতাব্দীর সেই পণ্ডিতের নামের সচেতন স্পর্শ রয়েছে? থাকলে তা সার্থক। এ কালের রূপমঞ্জরী (ঘোষ) কণাদের নিয়ে কাজ করেন। কোয়ান্টাম-চর্চার জগতে বিচরণকারী এই বিজ্ঞানীর গবেষণার কেন্দ্রে আলো, আরও নির্দিষ্ট করে বললে স্বচ্ছতার বিশ্লেষণ। এ গোলার্ধে আটকে নেই ভারতীয় বিজ্ঞানীর অনুসন্ধান। গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছেন! বিজ্ঞানে কেন নোবেল আসছে না দেশে? বেস্ট মঞ্চে তাঁর জবাব, “আমি এটাকে পুরস্কার বলি না। উৎকর্ষের দিকে আমাদের যাওয়ার কথা বলি। নোবেল পুরস্কারের জন্য অনেকে মনোনীত হন। যাঁদের বাছাই করা হয়, যাঁদের করা হয় না— তাঁদের মধ্যে খুব একটা তফাত থাকে না। আমাদের সেই দিকে যেতে হবে। দেশে বিজ্ঞানের গবেষণা এবং লেখাপড়া যাতে আরও বাড়ে, সে কাজেও মনোনিবেশ করেছেন তিনি। নিজের দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে আরও মেয়েকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনায় সাহায্য করেন এই বিজ্ঞানী। ইতিহাসের রূপমঞ্জরীর সঙ্গে এখানেও আজকের রূপমঞ্জরীর মিল। তিনি মনে করেন, ‘‘আমাদের দেশের এত প্রতিভাকে যদি আমরা ঠিক পথে চালিত করি, তা হলে বিজ্ঞানেও আমরা আরও সাফল্য পাব। ছোট ছোট ভাবে আমরা অনেকে করছি, কিন্তু টিমওয়ার্ক করতে পারি না। সেটা আমরা খুব একটা শিখছি না। সেটা হতে পারলেই হবে।’’ বেস্ট সন্ধ্যায় রূপমঞ্জরী ঘোষের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিজ্ঞানী পার্থ ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
(বাঁ দিক থেকে) বিজ্ঞানী পার্থ ঘোষ, বিজ্ঞানী রূপমঞ্জরী ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। —নিজস্ব চিত্র।
তিনিই সম্ভবত কলকাতার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তবে নিজের প্লেন নেই। দিল্লি যেতে হলে ইন্ডিগোর ইকনমি ক্লাসের টিকিট কাটেন। আমিরশাহির সাত জন আমিরের কেউ কেউ কলকাতায় আসেন ওঁর সঙ্গেই দেখা করতে। প্রায় কেউই তা টের পান না! যখন পশ্চিমবঙ্গে আর বিনিয়োগ না-করাই ভাল বলে মনে করে মুখ ফিরিয়েছেন অনেকে, হরিমোহন বাঙুর এ রাজ্যে থেকেই হয়েছেন দেশের অন্যতম সফল শিল্পপতি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা কি বাড়ল? বছরের বেস্টের পুরস্কারমঞ্চে হরিমোহন বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই এটা সম্ভব। মাত্র দু’মাস হয়েছে। সরকার এত ভাল কাজ করছে যে মানুষের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি প্রত্যাশাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘হাব’ হয়ে উঠবে পশ্চিমবঙ্গ, এ বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই।” হরিমোহন নিজেও আরও প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন বলে জানালেন। হরিমোহন বাঙুরের হাতে সম্মান তুলে দেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং অভীক সরকার।
(বাঁ দিক থেকে) রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পপতি হরিমোহন বাঙুর এবং অভীক সরকার। — নিজস্ব চিত্র।
একসময় মুম্বইয়ের হিন্দি ছবির জগতে ছিল বাঙালির ভিড়। ছবির নেপথ্যসঙ্গীতের ক্ষেত্রে তো বটেই। শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিংহ, সুরকার প্রীতম, গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্যেরা এ সময়েও একটা নতুন জোয়ার এনেছেন। সবেতে পিছিয়ে থাকলেও অন্তত এই একটি বিষয়ে এগিয়ে বাঙালি। বলি-গানের সেই বাঙালি তারকামণ্ডলে নতুন তারার উদয় ঘটেছে। নিখিতা গাঁধী। কলকাতাবাসী বাঙালি মা আর পঞ্জাবি পিতার এই কন্যা এখন বলিপাড়ার পরিচিত নাম। ‘কেদারনাথ’ ছবির ‘কাফিরানা’ থেকে ‘জব হ্যারি মেট সেজল’-এর ‘ঘর’— তাঁর গানের ঝুলিতে আছে আরও বহু জনপ্রিয় নাম। নিজের সবচেয়ে পছন্দের গানের কথা জানতে চাওয়া হলে নিকিতা বলেন, “আমি যখন লোকজনের সঙ্গে দেখা করি, লোকে আমার ‘ঘর’ গানটা খুব পছন্দ করে।” বছরের বেস্ট মঞ্চে ‘রাবতা’ গান পরিবেশন করেন তিনি। তামিল, তেলুগু, মরাঠিতেও শোনা যায় তাঁর গান। গেয়েছেন ইংরেজি, আরবি, পঞ্জাবিতেও। নিখিতার হাতে বেস্ট সম্মান তুলে দিলেন সঙ্গীতশিল্পী রূপম ইসলাম এবং অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।
(বাঁ দিক থেকে) মিমি চক্রবর্তী, নিখিতা গাঁধী এবং রূপম ইসলাম। —নিজস্ব চিত্র।
আরও পড়ুন:
মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া হাইস্কুলের শিক্ষক। তারক চন্দ্র শুধু স্কুলের কাজে আবদ্ধ রাখেননি নিজেকে, জীবনীশক্তি তাঁর দর্শন নিয়ে গিয়েছে বহু দূরে। কাজ করে চলেছেন তাঁরই মতো আরও বহু দৃষ্টিহীনের জন্য। শিক্ষক পথ দেখান, সে তো অনেকেই জানেন। তবে এই শিক্ষক আরও অনেকের জন্য সেই পথ দেখার ব্যবস্থা নিজে হাতে করেন। নিজে দু’টি সমস্যার সঙ্গে লড়ে তৈরি করেছেন জীবন। তাঁর মতো যেন অন্যদের না-যুঝতে হয় দারিদ্র আর দৃষ্টিহীনতার সঙ্গে, তাই মন দিয়েছেন সেই কাজে। শ্রুতিপুস্তক তৈরি করেন তিনি। দৃষ্টিহীন পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকের অডিয়ো লাইব্রেরি বানিয়েছেন এই শিক্ষক। দৃষ্টিহীনদের জন্য পাঠ্যপুস্তকের অভাব চিরকালের। তাঁর লাইব্রেরি থেকে শব্দবই নিতে যান মূলত দৃষ্টিহীন পড়ুয়ারা। এবং সে পরিষেবা পাওয়া যায় বিনামূল্যেই। তবে বছরের বেস্ট মঞ্চে তারক বললেন, ‘‘আমি চেষ্টা করছি যাতে দৃষ্টিমানেরাও অডিয়ো লাইব্রেরিটা ব্যবহার করতে পারে।” তাঁর কথায়, “প্রত্যেকেই পড়ছেন। পড়তে পড়তে একটা বই কখনও ভাল লাগছে না। কিন্তু একটা গান শুনছেন, সেটা তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়ে যাচ্ছে। আমার মতে, দৃষ্টিমানদের জন্যও অডিয়ো বই একটা আলাদা দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।” তারকের হাতে সম্মান তুলে দিলেন কবি জয় গোস্বামী এবং সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।
(বাঁ দিক থেকে) সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম, শিক্ষক তারক চন্দ্র এবং কবি জয় গোস্বামী। —নিজস্ব চিত্র।
বাবা প্রবাসী বাঙালি। মা তনুজার জন্ম অবাঙালি পরিবারে হলেও, তাঁকে একটুও কম বাঙালি বলা চলে না। পশ্চিমবঙ্গবাসী না-হয়েও বৃহত্তর অর্থে বহু বাঙালির চেয়ে বেশি বাঙালি কাজল। বাংলা সিনেমা দেখেন? উত্তর এল “না।” মায়ের মতো কখনও বাংলা সিনেমা করতে চান কি? “হ্যাঁ, অবশ্যই। মায়ের মতো করতে পারাটা একটা বড় ব্যাপার। তবে সেই পথে ছোট একটা পদক্ষেপ করতে পারলে তো ভালই লাগবে।” বঙ্গের বাইরে থেকে কাজ করে যাঁরা আমাদের জাতি হিসেবে দূর থেকে গর্বিত করে তুলেছেন, ইনি তাঁদের একজন। বলিউডের সর্বকালের সেরা এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের অন্যতম। ‘সিমরান’ বা ‘অঞ্জলি’ কাজল বহু বছর পরেও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। কাজলের হাতে ‘বছরের বেস্ট’ সম্মান তুলে দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়।
(বাঁ দিক থেকে) সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, কাজল এবং শতাব্দী রায়। —নিজস্ব চিত্র।
আমাদের দেশে শেষ দু’টি বুকার পুরস্কার এসেছে অনুবাদকের সৌজন্যে। এর আগে সাধারণত যাঁরা ইংরেজিতে লিখতেন, তাঁরাই এ ধরনের পুরস্কার পেতেন। কিন্তু এখন মূল লেখকের সঙ্গে অনুবাদকের নামও ঘোষিত হচ্ছে। আমাদের এ বারের বছরের বেস্ট-দের এক জন অনুবাদক অরুণাভ সিংহ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘‘অনুবাদ ছাড়া আমরা সাহিত্যের মাধ্যমে পৃথিবীর কোথাও পৌঁছোতেই পারতাম না।’’ সত্যজিৎ-শীর্ষেন্দু থেকে শংকর-শ্রীজাত— বহু বাঙালির সাহিত্যের সঙ্গে বহির্বিশ্বের পরিচয় ঘটিয়েছেন ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত তাঁর অনূদিত ১০১টি বই। ইংরেজি সাহিত্য অনুবাদ করেন বাংলায়। হিন্দি ভাষার লেখাও তাঁর হাতে পড়ে নতুন পাঠক পেয়েছে ইংরেজি বইয়ের মলাটে। দিল্লির অদূরে অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক। সাহিত্য নিয়ে চর্চায় নিযুক্ত নবপ্রজন্মকেও সংস্কৃতির বিস্তারের কাজে যুক্ত হওয়ার পাঠ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের এই প্রাক্তন ছাত্র। অরুণাভের হাতে বেস্ট সন্ধ্যার সম্মানস্মারক তুলে দেন অভিনেত্রী রাইমা সেন এবং ইআইআইএলএম কলকাতা-র চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর রমাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়।
(বাঁ দিক থেকে) অভিনেত্রী পাওলি দাম, ইআইআইএলএম কলকাতা-র চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর রমাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুবাদক অরুণাভ সিংহ এবং অভিনেত্রী রাইমা সেন। —নিজস্ব চিত্র।
তাঁর তৈরি বাংলা ছবি সম্পর্কের চেনা ছককে নতুন করে চিনিয়েছে। বৃহত্তর সমাজে নতুন প্রেক্ষিত তৈরি করেছে। পরিচালক নিজে নারী। ভাই-বোনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিয়ে তাঁর ছবি ‘স্বার্থপর’। পুরনো সমস্যাকে নতুন চোখে দেখিয়েছেন, মানছেন অনেকেই। এসআরএফটিআই-এর প্রাক্তনী বাংলা ছবির অধোগতি নিয়ে প্রশ্ন শুনেই বললেন, “ইতিহাস একটা চাকা। আগেও যা ঘটেছে বাংলা ছবির ইতিহাসে, সেই সময় আবার ফিরে আসবে। এটাই ভবিতব্য।’’ অন্নপূর্ণাকে বছরের বেস্ট সম্মান তুলে দিলেন পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া। ব্যবসায়িক ছবি না কি অন্য ধারার ছবি বানাতে চান? অন্নপূর্ণার জবাব, “যে ধরনের কাজ আমি করতে চাই, সেটা মানুষের কাছে সে ভাবেই পৌঁছে দিতে গেলে, শিল্প এবং ব্যবসার সুন্দর মেলবন্ধন দরকার। দু’টি পরস্পরের উপর নির্ভর করে।”
(বাঁ দিকে) দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া এবং পরিচালক অন্নপূর্ণা বসু (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।
তিনি অভিনেতা। আবার নেতাও। প্রযোজক, আবার উপস্থাপক। অভিনেতা, প্রেমিক, অ্যাকশন হিরো, রাজনীতিক, প্রযোজক, সমাজসচেতক— এতগুলো দেবের মধ্যে কোন দেবকে বেশি নম্বর দেবেন? বছরের বেস্টের মঞ্চে দেবের জবাব, “ভাল মানুষ হওয়া সবচেয়ে বেশি দরকার। ভাল মানুষ হতে পারলে সব ক’টা দেব ১০০ শতাংশ নিয়ে পাশ করবে। ভাল মানুষ না-হতে পারলে, সাফল্য পাব, কিন্তু মানুষের ভালবাসা পাব না। আমি ভালবাসার মানুষ হতে চাই।” দেবের হাতে বছরের বেস্ট সম্মান তুলে দেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূল এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীনই টালিগঞ্জে অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসদের দাপটের বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশ্য প্রতিবাদ কালীঘাটকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বিশ্বাস ব্রাদার্স নামে কোনও সিনেমা করতে চাইবেন? দেবের তাৎক্ষণিক উত্তর, “এমন কোনও মানুষের সঙ্গে লড়তে চাই না, যাঁর কোনও পাওয়ার নেই। যখন পাওয়ার ছিল, তাঁর সঙ্গে লড়েছি। মজাও পেয়েছি।”
(বাঁ দিক থেকে) পাওলি দাম, চন্দন মাইতি, দেব, শমীক ভট্টাচার্য এবং ব্রাত্য বসু। — নিজস্ব চিত্র।
এ বারের বছরের বেস্ট অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্রাত্য বসু এবং পাওলি দাম। দু’জনেরই পরিচয় নতুন করে দেওয়া বাহুল্য। অনুষ্ঠান শুরু হয় কৌশিকী চক্রবর্তীর কণ্ঠে সরস্বতী স্তোত্র দিয়ে। সম্মানজ্ঞাপন পর্বের মাঝপথে তিনি চারুকেশী রাগে দেবীবন্দনা করেন। প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন অভীক সরকার।