কতগুলি আইসিইউ শয্যা (বেড) রয়েছে হাসপাতালে, তার মধ্যে কতগুলিতে রোগী রয়েছে, ফাঁকা রয়েছে বা কতগুলি— সব তথ্যই এ বার লেখা থাকবে হাসপাতাল চত্বরে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ, আইসিইউ বেডের তথ্যসংবলিত বোর্ড টাঙাতে হবে সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। শুধু সরকারি হাসপাতাল নয়, এই নির্দেশ মানতে হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও!
হাসপাতালের আইসিইউ বেড সংক্রান্ত মামলায় গত মে মাসে একটি রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরের যেখানে সকলের নজর পড়ে, এমন জায়গায় ‘স্ট্যান্ডার্ড ডিসপ্লে সিস্টেম’ চালু করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। শুধু কতগুলি বেড খালি আছে, সেই তথ্য দিলেই চলবে না। রোগী বা তাঁর আত্মীয় পরিজনদের এ-ও জানাতে হবে, ভেন্টিলেটর-সহ আইসিইউ বেড কতগুলি আছে, ভেন্টিলেটর-ছাড়া কতগুলি— সব তথ্যই থাকতে হবে ওই বোর্ডে।
রাজ্যের সব সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালকে এই নির্দেশিকা মানতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলিকে এ-ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা আইসিইউ পরিষেবার কাঠামো খতিয়ে দেখে। যদি কোনও খামতি থাকে, অবিলম্বে তা মেরামত করতে হবে।
আরও পড়ুন:
আইসিইউ বেড না-থাকায় মুমূর্ষু বা সঙ্কটজনক অবস্থায় রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হয় পরিজনদের। চিকিৎসক আইসিইউ-তে ভর্তির পরামর্শ দিলেও বেডের অপ্রতুলতার কারণে বিপদে পড়তে হয় রোগীর পরিবারকে। তারা জানতে পারে না, ওই হাসপাতালে কতগুলি আইসিইউ বেড রয়েছে। অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালেই আইসিইউ বেড পাওয়া সবচেয়ে বেশি সমস্যার। অনেককে তাই ছুটতে হয় বেসরকারি হাসপাতালে। তবে অনেকের পক্ষেই বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য থাকে না। নতুন সিস্টেম চালু হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সুরাহা মিলবে বলে আশাবাদী অনেকেই।