সপ্তমীর সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টি নামে। তার জেরে মণ্ডপের প্রস্থানপথের সামনে ভিড় জমে। সেই পরিস্থিতিতেই কেউ বা কারা ঘোষণা করেন মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ছে। ঠেলাঠেলি পরিণত হয় হুড়োহুড়িতে। শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের নেপথ্যে এটাই অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই ঘোষণা কে বা কারা করেছিলেন, এখনও তা খুঁজজে পুলিশ। মণ্ডপের কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল বলে প্রমাণ মেলেনি। তা হলে সেই ঘোষণা হয়েছিল কেন? নবমী এবং দশমীর দিন মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্য দিকে, চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে কোচবিহারে গ্রেফতার হয়েছেন এক জন।
সোমবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল অগ্রবাল জানান, গোটা মণ্ডপে মোট ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ঘটনাস্থলের ফুটেজ উঠে এসেছে ১৩টিতে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, বৃষ্টির কারণে প্রস্থানপথ ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বন্ধ করা হয়নি মণ্ডপের প্রবেশপথ। ভিতরেও তখন ছিল ভিড়। অভিযোগ, সে সময় মণ্ডপের ভিতরে ঘোষণা করা হয়, তার একাংশ ভেঙে পড়ছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মণ্ডপের কোনও অংশ ভেঙে পড়েছে বলে তারা প্রমাণ পায়নি। তা হলে কেন সপ্তমীর সন্ধ্যায় সেই ঘোষণা হয়েছিল? কে বা কারা তা করেছেন, পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
শুভেন্দুর কর্মসূচি
বিপর্যয়ের পরে রবিবার সকালে ভবানী ভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি জানান, চোরবাগানকাণ্ডের পরে রাজ্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০ এবং ২১ অক্টোবর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৬ অক্টোবর আড়ম্বরহীন ভাবে বিজয়া সম্মিলনী হবে মিলন মেলায়। সেখানে কলকাতা ও পাঁচটি কমিশনারেটের পুজো উদ্যোক্তাদের ডাকা হবে। চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় জখম ২৫ জনও থাকবেন। তাঁদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।
হাসপাতাল থেকে ছুটি
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের ধাপে ধাপে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করল বাইপাসের ধারের হাসপাতাল। প্রথম সপ্তমীর রাতে দুর্ঘটনার পর আহতদের প্রথমে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১২ জনের চিকিৎসা চলছিল। এসএসকেএমে দু’জন আহতকে ভর্তি করানো হয়। পরে ১৪ জনকেই ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করানো হয়। সোমবার সেখান থেকে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও চিকিৎসাধীন চার জন।
আরও পড়ুন:
গ্রেফতার যুবক
সপ্তমীতে চোরবাগান ক্লাবের দুর্ঘটনায় মৃতদের চোখ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেফতার কোচবিহারে টাপুরহাটে এলাকার বাসিন্দা আইনুল হক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চোরবাগান ক্লাবের দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেছেন তিনি। এই পোস্ট করার পর সাধারণ মানুষকে তা বেশি করে শেয়ার করার আবেদন জানান। কেন তিনি এই ধরনের পোস্ট করলেন, নেপথ্যে আর কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।