Advertisement
E-Paper

অধিকৃত কাশ্মীরে পাক সেনার গুলিতে নিহত ২০! হিংসার মধ্যেই প্রথম দফার ভোটগণনা, উঠল কারচুপির অভিযোগও

গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র আন্দোলনের নতুন পর্যায়। এর মধ্যে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৭
At least 20 killed, 50 injured in brutal crackdown by Pakistan Forces in PoK amid election

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হিংসা। ছবি: সংগৃহীত।

ইসলামাবাদ-বিরোধী বিক্ষোভে আবার সেনার গুলি এবং প্রাণহানির ঘটনা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে)। গত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিক্ষোভকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র অভিযোগ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রাদেশিক আইনসভার প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১৩টি আসনের ফলাফল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দল ‘পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএলএন ন’টি এবং তাদের শরিক পাকিস্তান পিপলস্‌ পার্টি (পিপিপি) চারটি আসনে জিতেছে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে প্রথম দফার ভোটের ফল প্রকাশের পরে পিপিপি নেতা নইয়ার বুখারি বলেন, ‘‘সেনার সহায়তায় ভোটে কারচুপি করে জিতেছে মুসলিম লিগ (নওয়াজ)।’’ তাঁর অভিযোগ ভোটগণনার সময় পিএমএলএন দুষ্কৃতীরা পিপিপি-র এক কর্মীকে খুন করেছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় ৪৫টি আসনের নির্বাচন ২৭ জুলাই থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৭ জুলাই প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোট হয়েছিল। শাহবাজ় সরকারের ‘নিষিদ্ধ’ করা সংগঠন জেএএসি ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ার পরে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনী জোর করে বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে বুথে গিয়ে ভোটদানে বাধ্য করিয়েছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় পাক বাহিনী নিরস্ত্র জমায়েতে গুলি চালায়। রাওয়ালাকোটের ড্রেক এইথ এলাকায় মৃত্যু হয় ২০ জনের। গুলিবিদ্ধ অন্তত ৫০ জন চিকিৎসাধীন বলে জেএএসি-র অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জেএএসির কোর কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মীরির ভাই উসমান নাজির।

দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনের নতুন পর্যায়। তাতে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

POK Pakistan Politics Pakistan election Pakistan Occupied Kashmir Pakistan Army

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy