Advertisement
E-Paper

ভারত প্রসঙ্গে কোনও ‘মুগ্ধতা’ চায় না ঢাকা! তারেকের সরকার বলল, ‘খালি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন’

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত। ব্রিক্‌সের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ পেয়েও ভারতে আসেননি তারেক। পাঠাননি কোনও প্রতিনিধিও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৪
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। — ফাইল চিত্র।

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাইলেও কোনও ‘মুগ্ধতা’ চাইছে না বাংলাদেশ। রবিবার এমনটাই দাবি করল তারেক রহমানের সরকার। বাংলাদেশের দাবি, ভারত তাদের কাছে শুধুই একটি প্রতিবেশী দেশ। দিল্লির সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ ভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাখতে চায় তারা। তবে দিল্লি প্রসঙ্গে কোনও ‘মুগ্ধতা’ রাখতে চায় না।

ব্রিক্‌সের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে তিনি আসেননি। কোনও প্রতিনিধিও পাঠায়নি বাংলাদেশ। তাদের দাবি, তারেককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়নি। সাত দেশের জোট ‘বিম্সটেক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারেককে। দিল্লি-ঢাকা সাম্প্রতিক টানাপড়েনের মাঝে রবিবার ফের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ দিন বলেন, “ভারত নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ (মুগ্ধতা) থেকে বেরিয়ে আসুন। ভারত শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবারের সময়— সব সময় খালি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করলে নিজের দেশের কথা কখন ভাববেন। নিজের দেশের চিন্তা করেন।”

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাষ্ট্রপু‌ঞ্জের সাধারণ সভায় বক্তৃতার কথা রয়েছে তারেকের। সেই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কোনও পার্শ্ববৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় হুমায়ুনের কাছে (সাধারণ সভায় মোদীর বক্তৃতার দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি)। ওই প্রশ্নের উত্তরেই বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর দাবি, তাঁরা দিল্লির সঙ্গে ভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আগ্রহী। একই সঙ্গে এ-ও বলেন, “পার্শ্ববৈঠকে সকলের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক আমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।” হুমায়ুনের দাবি, যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক আলোচনার দরকার হবে, তা অবশ্যই করবে বাংলাদেশ।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সূত্রের খবর, তিন দশক ধরে চলে আসা এই চুক্তির মেয়াদ শেষের আগেই এটি নবীকরণে আগ্রহী ঢাকা। বাংলাদেশের আধিকারিক সূত্রে খবর, নভেম্বরে বা ডিসেম্বরের শুরুতে দ্বিপাক্ষিক সফরে তারেকের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে তা ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের অগস্টে হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে এক চাপানউতর তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করার বিষয়ে উদ্যোগী হয় দু’দেশেই। তবে গত অগস্টে দিল্লিতে হাসিনার এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে ফের দু’দেশের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়।

India Bangladesh Ties Tarique Rahman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy