ব্রিটিশ সাহিত্যিক ও প্রাক্তন রাজনীতিবিদ জেফ্রি আর্চার প্রয়াত। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে আর্চারের প্রকাশক জানিয়েছে, নিজের বাড়িতে লেখালিখি করার মাঝেই ‘হঠাৎ ও শান্তিপূর্ণভাবে’ মৃত্যু হয়েছে আর্চারের।
প্রকাশকের দাবি, এই মাসেই আর্চারের শেষ বই ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ প্রকাশিত হবে। গল্পের জাদুকর আর্চারের কাছে তাঁর পাঠকেরাই ছিলেন সব কিছু। আর্চারের পাঁচ দশকের দীর্ঘ লেখালেখির জীবনে ৪৯টি ভাষায় ও ১১৯টি দেশে ৩০ কোটিরও বেশি বই বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ‘ক্লিফটন ক্রনিকলস’ এবং ‘কেইন অ্যান্ড আবেল’ অন্যতম। তাঁর উপন্যাসগুলির পটভূমিতে আর্চারের শহর সমারসেটের ওয়েলিংটনের ছোঁয়া পাওয়া যায়। আর্চার ‘সানডে টাইমস’ বেস্টসেলার তালিকায় মোট ১৪ বছর ৫ মাস এবং ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ বেস্টসেলার তালিকায় সাড়ে ৫ বছর ছিলেন।
আরও পড়ুন:
১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্ম আর্চারের। তবে তাঁর জন্মের পরেই তাঁর পরিবার সমারসেটের ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ার-এ চলে যান। আর্চার এবং তাঁর স্ত্রী মেরি এই বছরই তাঁদের ৬০তম বিবাহবার্ষিকী উদ্যাপন করেছিলেন। এই দম্পতির দুই পুত্র এবং পাঁচ নাতি-নাতনি রয়েছেন। ১৯৯২ সালে আর্চারকে ‘লাইফ পিয়ার’ উপাধি দেওয়া হয়।
রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন আর্চার। তিনি পাঁচ বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কনজ়ারভেটিভ সাংসদ ছিলেন। তবে, ২০০১ সালে মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে তাঁর চার বছরের জন্য কারাদণ্ড হয়। জানা গিয়েছে, ১৯৮৭ সালে ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা তাঁর একটি মানহানির মামলায় তিনি মিথ্যাচার ও প্রতারণা করেছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এই ঘটনার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবন থমকে যায়।
২০০৩ সালে জেল থেকে মুক্তি পান আর্চার। ২০২৪ সালে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত হাউস অফ লর্ডস-এর সদস্য ছিলেন।